চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বনভূমিতে প্রশিক্ষণ একাডেমি নয়: সংসদীয় কমিটি

কক্সবাজারে রক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিরোধিতা করছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে ওই প্রকল্পের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না দেয়ার সুপারিশ করেছে তারা।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সংসদীয় কমিটি বলেছে, বনভূমির মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কক্সবাজারের সরক্ষিত বিপুল বনভূমি কীভাবে প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হলো তা খতিয়ে দেখা হবে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যেখানে বেদখলে থাকা বনভূমি উদ্ধার করছি, সেখানে সরকারের আরেকটি সংস্থা জমি যদি নিয়ে নেয়, এটা তো ঠিক নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে আমরা সমর্থন করি। তবে ওই জায়গায় এটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমাদের বিধি-নিয়ম এমনকি এটা সংবিধান পরিপন্থি। এটা অন্য জায়গায় হোক।’

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ করতে সংরক্ষিত কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ঝিলংজা বনভূমির ৭০০ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়। এলাকাটি প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন।

২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন বঙ্গবন্ধু একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নির্মাণের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে অনাপত্তিপত্র চায়; সংস্থাটি ওই বছরই বিভিন্ন শর্তে অনাপত্তিপত্র দেয়।

ওই এলাকাকে ১৯৩৫ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯৮০ সালে এটাকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা হয়। ২০০১ সালে দেশের বনভূমির যে তালিকা করা হয়, তাতেও ঝিলংজা মৌজা বনভূমি হিসেবে আছে।

পূর্বকোণ/মামুন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 318 People

সম্পর্কিত পোস্ট