চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী 

চট্টলদরদী ইউসুফ চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী আজ

আধুনিক সংবাদপত্রের পথিকৃৎ, চট্টলদরদী এবং দৈনিক পূর্বকোণের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। ১৯২১ সালের এই দিনে তিনি রাউজানের ঢেউয়া হাজিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দৈনিক পূর্বকোণে আজ প্রকাশিত হল বিশেষ সংখ্যা।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী সংবাদপত্রশিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অবদান রাখেন। ১৯৮৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি আধুনিক সংবাদপত্র দৈনিক পূর্বকোণ প্রকাশ করেন। ১৯৯২ সাল থেকেই ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পের আন্দোলনে সক্রিয় হন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেন চিটাগাং ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্ম এসোসিয়েশন। এ সংগঠনের তিনি আমৃত্যু সভাপতিও ছিলেন। তাঁর কর্মউদ্যোগের ফলে চট্টগ্রামে সুফল পায় চারশ’ খামার।

চট্টগ্রামে প্রথম গবাদি পশুমেলারও উদ্যোক্তা তিনি। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আগমনস্থল নিজ বাড়িতে কবির স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা, নজরুল মেলা এবং নজরুল পাঠাগারও স্থাপন করেন। বিআইটিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) রূপান্তরের ধারাবাহিক সংগ্রামেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি সবসময় চট্টগ্রামের উন্নয়নে সোচ্চার ছিলেন।

কৃষি সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। চট্টগ্রামে ভেটেরিনারি কলেজ ও পরবর্তীতে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। নগরবাসীর সুপেয় পানি সংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি।

দূরদর্শী ভাবনার অধিকারী ছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী। তাঁর চিন্তা-চেতনায় মিশে থাকতো চট্টগ্রামের উন্নয়ন। তিনি ধনীর ঘরের দুলাল ছিলেন না। নিরলস পরিশ্রম  ও সাধনার মাধ্যমে একেবারে শূন্য থেকে সাফল্যের উচ্চ শিখরে আরোহন করেছিলেন। তিনি একের পর সম্পদ গড়ার কাজে বিশ্বাসী ছিলেন না, সমাজের গণমানুষের কল্যাণে তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অবদান রাখতে পারে সেদিকে বরাবরই সজাগ ছিলেন।

সমাজে বেকারত্ব লাঘবে তাঁর অসামান্য অবদান ছিল। তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতশত মানুষ চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।  সাফল্যের সংক্ষিপ্ত কোন পথের বিশ্বাসী ছিলেন না ইউসুফ চৌধুরী। তাই তিনি জীবদ্দশায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। এমনকি অন্যদেরও তিনি প্রতিনিয়ত পরিশ্রমে উৎসাহ যোগাতেন। তিনি একটি কথা সবসময় বলতেন- ‘সাফল্যের সহজ কোন পথ নেই, পরিশ্রম করলে সাফল্য ধরা দেবেই’।

বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত ইউসুফ চৌধুরী একদিকে শিল্পোদ্যাক্তা অন্যদিকে সমাজসেবক ছিলেন। শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তাঁর। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে একটা বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যেসমস্ত সুযোগ সুবিধার প্রয়োজন তা গড়ে তোলার জন্য তিনি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।

খামারি, দুগ্ধশিল্প, ওষুধশিল্প, পত্রিকার মালিক, পশু প্রেমিক সর্বোপরি একজন মানবদরদী ছিলেন। ইউসুফ শব্দের অর্থ আল্লাহ এর অনুগ্রহপ্রাপ্ত। মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী আল্লাহ এর বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন সেল্ফ মেড একজন মানুষ। ইউসুফ চৌধুরীর কারণে চট্টগ্রামে দুটি শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। পত্রিকা এবং ডেইরি শিল্প। আধুনিক যে সকল বিষয়ে চিন্তাধারা হয়েছে সব কিছুর নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামে সংস্কৃতির যে পরিবর্তন হয়েছে এবং চট্টগ্রামের প্রতি মানুষের যে আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে- তাতে ইউসুফ চৌধুরীর অবদান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় (বাংলাদেশ সময়) তিনি পবিত্র মক্কা নগরীর জিয়াদ হাসপাতালে ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ১২ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে নামাজে জানাজাশেষে সকাল ৯টায় মক্কার সরায়ে মকবরায় তাঁকে দাফন করা হয়।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 237 People

সম্পর্কিত পোস্ট