চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

‘মেয়রবিহীন’ ভোটেও আতঙ্ক

করোনা সংক্রমণের কারণে দুই দফায় পেছানো ও অনেক নাটকীয়তার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বোয়ালখালী পৌর নির্বাচন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহুরুল ইসলামকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১১ এপ্রিল পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল। দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এদিকে, নির্বাচনের আগমুহূর্তে অস্থির হয়ে উঠেছে ভোটের রাজনীতি। একাধিক ওয়ার্ডে পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারে বাধা, ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রিটার্নিং কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান অভিযোগকারী প্রার্থীরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং অফিসার ও বোয়ালখালীর ইউএনও নাজমুন নাহার পূর্বকোণকে বলেন, ‘অভিযোগগুলো তদন্ত করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযোগের সত্যতা পেলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।’  পৌর এলাকার ১ নং ও ৬ নং ওয়ার্ডে দুটি ভোটকেন্দ্র অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি প্রার্থীদের। পশ্চিম কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়-প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মিরপাড়া হাজি হামিদুল হক প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। এ দুটি ভোটকেন্দ্রে দুইজন প্রার্থী একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। অন্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। এজেন্টদের হুমকি ও ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রার্থীরা। গতকাল এক প্রার্থী চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটের দাবি করেছেন প্রশাসনের কাছে।

রিটার্নিং অফিসার নাজমুন নাহার গতকাল রাতে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকা এখনো হাতে পায়নি। তালিকা পাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো চিহিৃত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।’

এদিকে, আজ মধ্য রাত থেকে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। শেষমুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। গতকাল বন্ধের দিন প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকেরা। আজ মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইভিএম ও ভোটগ্রহণের সরঞ্জামাদি ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, আনসার মিলে ১০-১২ জন ও সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ৮-১০ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা ৫২ হাজার ৮৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৭ হাজার ১৩৫ জন, নারী ২৫ হাজার ৭০৩ জন। ৯টি ওয়ার্ডে ২৪টি কেন্দ্রে ১৪৫টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 247 People

সম্পর্কিত পোস্ট