চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ৩:২৬ অপরাহ্ণ

চবি সংবাদদাতা

ক্যাম্পাসে হেনস্থার শিকার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্রী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই ছাত্রী হেনস্থার শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় বাসায় যাওয়ার পথে চবির কেন্দ্রিয় মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ৪ যুবক ওই ছাত্রীদের পথরুদ্ধ করে হেনস্থা করেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়ি কেন্দ্রিয় মসজিদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় ওই ৪ যুবক দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তবে একজন হেনস্থাকারীকে ধরে ফেলেন প্রক্টরিয়াল বডি।

জানা গেছে, হেনস্থাকারীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। ঘটনার পর ফারহানা আয়ুশি নামের এক ভুক্তভোগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন।

যার কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো- ‌‘একটা কাজ শেষ করে শহর থেকে বাসায় আসছিলাম। বৃষ্টি থাকায় আর গাড়ি না পাওয়ার কারণে শহর থেকে আসতে দেরি হয়ে গেলো। তার ওপর ১ নম্বর গেটে সিএনজি পেতেও সমস্যা হওয়ায় জিরো পয়েন্ট যখন পৌঁছালাম তখন প্রায় ১১টা ৪০ বাজে। আর সাথে আমার ডিপার্টমেন্টের এক সিনিয়র আপুও ছিলো। আপু ১৬-১৭ আর আমি ১৭-১৮ সেশনের। জিরো পয়েন্ট পার হতেই প্রক্টর স্যারের সাথে দেখা, স্যার আমাদেরকে জিজ্ঞেস করায় নিজেদের সমস্যাগুলো বললাম, স্যারও বুঝতে পেরে আমরা একা বাসায় যেতে পারবো কিনা জিজ্ঞেস করলেন আর সাবধানে যেতে বলে বিদায় নিলেন। আমরা স্যারের সাথে আলাপ করে ২ নম্বর গেটের দিকে হাঁটা ধরলাম।’

তিনি আরও লিখেন, ‘হাঁটতে হাঁটতে যখন সোহরাওয়ার্দী মোড় পার হয়ে সেন্ট্রাল মসজিদের কাছাকাছি গিয়েছি, হুট করে পেছন থেকে ডাক দিলো কে জানি। ক্যাম্পাসে রাতের বেলা হাঁটতে গিয়ে মেয়েরা প্রায়ই এরকম উড়ো ডাক শুনে। তাই কানে না নিয়ে আমরা নিজেদের মতো হাঁটছিলাম। আমাদের সাড়া না পেয়ে এবার কেউ একজন জোরে থ্রেট দেওয়ার ভঙ্গিতে ডেকে বললো, এই দাঁড়ান, ডাকছি না?

‘আমরা দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরলাম আর দেখলাম- তিনজন ছেলে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। আমরা জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে। ততক্ষণে তারা এসে আমাদের রাস্তা আটকে দাঁড়ালো আর নানারকম প্রশ্ন করা শুরু করলো। তারা আমাদের সেশন, পরিচয়, ওদের ফোন বের করে টাইম দেখিয়ে এতো রাতে এখানে কেন, কি করছি আরো নানান কথা বলতে থাকলো। প্রথমে থতমত খেয়ে গেলেও সামলে নিলাম। বললাম যে আমরা ওদেরকে বলতে বাধ্য নই, একটু আগে প্রক্টর স্যারের সাথে দেখা হয়েছে, স্যার জানেন। তারপর আমাদের রাস্তা ছেড়ে দিতে বললাম। ওরা আমাদের রাস্তা না ছেড়ে আটকে রাখলো, আরও বেশি করে জেরা আর থ্রেট দেয়া শুরু করলো।’

ওই ছাত্রী আরও লেখেন, ‘রাস্তা ছাড়ছে না দেখে বাধ্য হয়ে আমাদের সেশন বললাম। আমাদের সেশন বলে ওদের সেশন জিজ্ঞেস করতেই আরও রেগে গেলো। আমাদের আজেবাজে কথা বলা শুরু করলো। ওদের এরকম আজেবাজে কথাবার্তা শুনে আমরা বললাম- রাস্তা না ছাড়লে প্রক্টর স্যারকে কল দিবো! তখন ওদের একজন বলে উঠলো প্রক্টর কে যে ওদেরকে প্রক্টরের ভয় দেখাচ্ছি। কাকে ফোন দিবো দিতে ওরাও দেখবে কি করতে পারি। ওদের সাথে তখন আরেকটা ছেলে এসে যোগ দিলো। এবার ৪ জন মিলে আমাদেরকে শাসাতে শুরু করলো। আমরাও তর্ক করছিলাম, একপর্যায়ে ওরা সবাই প্রায় তেড়ে আসছিলো আমাদের দিকে। তাদের মধ্যে একজন ছিলো লুঙ্গি পরা। সে লুঙ্গিটা হাঁটুর ওপরে তুলে বারবার আমাদের গায়ে পড়ার জন্যে তেড়ে আসছিলো। তখন আমরা চিৎকার করে কথা বলা শুরু করেছিলাম রাগে আর ভয়ে।’

‘ঠিক তখনই দুই নম্বর গেটের দিক থেকে একটা গাড়ি আসতে দেখি, কাছাকাছি আসতেই বুঝতে পারলাম এটা প্রক্টর স্যারেরই গাড়ি। আমরা চিৎকার করে ডেকে হাত নেড়ে স্যারের গাড়ি থামাই। স্যারের গাড়ি থামতেই ওরা দৌঁড়ানো শুরু করে, স্যারদের মধ্যে একজন দৌঁড়ে গিয়ে ওদের একজনকে ধরে ফেললেন। স্যারের সাথে আরো ৬-৭ জন স্যার ছিলেন। তারপর ছেলেটাকে জেরা করে জানা গেলো ওরা ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। একজন আরবি বিভাগের, একজন ফিলোসফির আর বাকিদেরটা জানি না।’

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, প্রক্টর স্যার ছেলেটার আইডি আর নাম লিখে নিয়ে গেছেন। আমাদেরকেও আশ্বাস দিয়েছেন ওই ঘটনার সঠিক বিচার করবেন।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া পূর্বকোণকে বলেন, ‌‘বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আমরা গাড়ি নিয়ে ঘুরছিলাম। রাত ১১টার দিকে কেন্দ্রিয় মসজিদের গেটের সামনে দুইজন ছাত্রী আমাদের গাড়ি থামিয়ে তাদেরকে হেনস্থার কথা বলেন। আমরা গাড়ি থামিয়ে অভিযুক্ত ছেলেদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। তবে এর মধ্যে একজনকে আমরা দৌঁড়ে ধরে ফেলি। তার আইডি কার্ড ও মুঠোফোন জব্দ করেছি। রবিবার দেখা করতে বলেছি। তার মাধ্যমে অন্য অভিযুক্তের পরিচয় জেনে আমরা ব্যবস্থা নিব।’

পূর্বকোণ/এএ/এএইচ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 653 People

সম্পর্কিত পোস্ট