চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯

সর্বশেষ:

১০ জুলাই, ২০১৯ | ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

চান্দগাঁও রেললাইনে পাওয়া লাশটি সোমার

পালক পিতার হাতে খুন কিশোরী !

স্বামীর লালসার হাত থেকে বাঁচাতে রাতভর নির্ঘুম থেকে কিশোরী মেয়েকে পাহারা দিয়েছে ধর্মান্তরিত নাছিমা বেগম। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। নাছিমার দাবি ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে পনেরো বছর বয়সী মেয়েটিকে নির্মমভাবে খুন করেছে পালক পিতা নুরুন্নবী। কিশোরী সোমার মৃতদেহের পাশে যে জুতো জোড়া পাওয়া গেছে সেটি নুরুন্নবীর পরনে ছিলো। অথচ ছোট বেলা থেকে নিজের সন্তানের মতো মেয়েটিকে লালন পালন করেছে। মাথায়-কপালে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে কিশোরীর মৃতদেহ রেললাইনে ফেলে দেয়া হয়। গত ৬ জুলাই চান্দগাঁও থানার খেঁজুরতলা লালপুল রেলবিটের পাশ থেকে যে মৃতদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে সেটি ছিলো কিশোরী সোমা দাসের।
রেলওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) মোস্তাফিজ ভুইয়া জানান, রেল লাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম সোমা দাশ। কিশোরীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতের পর ছুরির একটি অংশ কিশোরীর মাথার ভেতরে থেকে যায়। যা পরে ময়নাতদন্তের সময় চিকিৎসক বের করেন। ঘটনার পর থেকে নুরুন্নবী পলাতক। তাকে পাওয়া গেলে হত্যাকা-ের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
ধর্মান্তরিত নাছিমা জানান, সতেরো বছর আগে রাউজানের বানিয়াপাড়ার রাজু দাসের সাথে তার বিয়ে হয়। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় রাজুর সাথে তার বিচ্ছেদ হয়। এরমধ্যে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। নাম রাখা হয় সোমা দাশ রেহা। সাত বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়ে সাতকানিয়ার রূপকানিয়া গ্রামের মৃত কালা পাঠানের ছেলে নুরুন্নবীর সাথে তার বিয়ে হলে শিশু সোমাকে নানা রামদাস লালন পালন করেন। সোমার বয়স ১২/১৩ বছর হবার পর সাতকানিয়ায় মায়ের কাছে চলে আসে। মাঝে মাঝে নানার বাড়ি গিয়ে নানার খোঁজ খবর নিয়ে আসতো। গত দুই মাস আগে সাতকানিয়ার উত্তর ঢেমশা গ্রামে বাসা ভাড়া নেয় নুরুন্নবী।



নাছিমা জানান, তার দ্বিতীয় স্বামী নুরুন্নবী প্রায় সময় সোমার দিকে বিকৃতদৃষ্টিতে তাকাতো। তার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করতো। সোমা মায়ের কাছে এসব বিষয় জানিয়েছে একাধিকবার। বিষয়টি তিনি বুঝতে পেরে মেয়ের দিকে নজর রাখতেন। ঘটনার আগের দিন অর্থ্যাৎ গত ৫ জুলাই রাতে কিশোরী সোমাকে নুরুন্নবী ধর্ষণের চেষ্টা করলে তা দেখে ফেলে। এ নিয়ে রাতে নাছিমার সাথে নুরুন্নবীর ঝগড়া হয়। রাতভর নির্ঘুম থেকে পাহারা দিয়ে সকাল (৬ জুলাই) এগারোটার দিকে কিশোরী সোমাকে চান্দগাঁও খেঁজুরতলা বাহ্মণপাড়ায় বোন পূর্নিমা দাসের কাছে পাঠিয়ে দেন। সোমা উত্তর ঢেমশার বাসা থেকে বের হবার পর পরই নুরুন্নবীও ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ঐদিন (৬ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার সময় রেল লাইনের পাশে সোমার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
নাছিমা জানান, বের হবার সময় নুরুন্নবীর পরনে এক জোড়া প্লাস্টিকের কালো রংয়ের জুতা, জিন্সের প্যান্ট, ও একটি চেকের হাফ টিশার্ট পরা ছিলো। সোমার লাশের পাশে যে জুতো জোড়া পাওয়া যায় সেটি নুরুন্নবীর পরনে ছিলো।
ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি আত্মীয় স্বজনদের জানাবে কিংবা আইনের সহায়তা নেবে এমনটি আশংকায় নুরুনন্নবী সোমাকে খুন করেছে এমন ধারণা করছেন নাছিমা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা ময়না তদন্ত প্রতিবেদন আসলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

The Post Viewed By: 255 People

সম্পর্কিত পোস্ট