চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সর্বশেষ:

২৬ জুলাই, ২০২১ | ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু 

গ্রামের রোগীতে ঠাসা চট্টগ্রাম নগরী

সীতাকুণ্ড থেকে করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে আসেন ছেলে মুসলিম উদ্দিন। শ্বাসকষ্ট নিয়ে বহুদূর পথ পাড়ি দিয়ে যখন হাসপাতালটির কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করা হয়, তখনই মুসলিম জানতে পারেন একটি শয্যাও খালি নেই। তীব্র শ্বাসকষ্টে বাবাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় তার। সময় নষ্ট না করেই বহনকারী এম্বুলেন্সটি নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আশা নিয়ে হাসপাতালটিতে এলেও প্রথম ধাক্কাতেই শুনতে হয় কোন শয্যা খালি নেই। এমন খবরে কপালে যখন ভাঁজ পড়ার মতো অবস্থা, তখনই কর্তব্যরত এক চিকিৎসক এগিয়ে এসে জানান, ফ্লোরে রেখেই চিকিৎসা নিতে হবে। এ কথা শুনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে মুসলিমের মনে।
শুধু মুসলিমই নয়, শয্যা খালি না থাকায় গতকাল (রবিবার) চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে সংকটাপন্ন এমন ২০ জনকে ফেরত দিতে হয়েছে। যাদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা। শুধু এ ২০ জনই নয়। চট্টগ্রামের তিন সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া রোগীদের সিংহভাগই মফস্বল এলাকার। এরমধ্যে গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যা পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের ৩০০ শয্যার বিপরীতে ২৯১ জন রোগী ভর্তি ছিল। যারমধ্যে সিংহভাগই হচ্ছে গ্রামের রোগী। জেনারেল হাসপাতালের চিত্রও প্রায় কাছাকাছি। হাসপাতালটিতে ১৪০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ১২৯ জন রোগীর মধ্যে অর্ধেকের বেশি বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা।
এদিকে, ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালের ৫০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি থাকা ৩৯ জন রোগীর মধ্যে ৩৫ জনই মফস্বলের। এ তিন হাসপাতালের হিসেবে দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি রোগীই গ্রাম থেকে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও কোভিড-১৯ এর ফোকাল পার্সন ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে পর্যালোচনা করে দেখেছি। যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের ৯০ শতাংশই হচ্ছে গ্রামের তথা বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা। শহরের একদম কম রোগীই ভর্তি হচ্ছে। প্রতিদিন যারা মারা যাচ্ছেন তারাও উপজেলা বা গ্রামাঞ্চাল থেকে আসা এসব রোগী’।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি রয়েছেন, তাদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই মফস্বল এলাকা থেকে আসা। বেশিরভাগ রোগীই অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৮০ এর নিচে থাকে। যাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে স্বাভাবিক করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে’।

স্বাস্থ্য বিভাগ যা বলছেন :
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘রবিবার (গতকাল) সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৪ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। যদিও এটি সংখ্যায় খুবই কম। ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যেন রোগীদের স্থানীয়ভাবেই চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া গ্রামের করোনা আক্রান্ত রোগীরা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতেই উপজেলা হাসপাতালে যাচ্ছেন। যাদের শারীরিক অবস্থা তখন খুবই খারাপ থাকে। এতে করে সংকটাপন্ন এসব রোগীদের বাধ্য হয়েই নগরীতে পাঠাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে অবশ্যই সকলের সচেতন হওয়া উচিত। সাধারণ সমস্যা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। এতে অন্তত শারীরিক অবস্থা খারাপ হবে না’।

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1265 People

সম্পর্কিত পোস্ট