চট্টগ্রাম শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

সর্বশেষ:

২৫ জুন, ২০২১ | ২:৫৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ সেকেন্ডে সিএনজির পর্দা কেটে যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিত আকাশ!

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে স্বামী-স্ত্রীসহ ছিনতাই চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) গভীর রাতে বাদামতলী মোড় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. আকাশ (২৪), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বেপারি বাড়ির আবু মালেকের মেয়ে তানিয়া বেগম (২৫), বন্দর থানার দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের মৃত আবুল বশরের ছেলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (৪৫) ও সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. তাজুল ইসলাম (৪০)।

পুলিশ জানায়, গত রমজানে এক তরুণী গন্তব্যে যাওয়ার সময় সিএনজির পর্দা কেটে তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায় আকাশ। তখন থেকেই তাকে ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে আকাশসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮ পিস ডায়মন্ড, বিভিন্ন সময় ছিনতাই করা ১৬টি ভ্যানিটি ব্যাগ, ছিনতাইকৃত ভিভো, অপ্পো, রেডমি, এমআইসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১টি মোবাইল সেট, নগদ ২০ হাজার টাকা এবং সিএনজির হুক কেটে নেওয়ার একটি কাটার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরো জানায়, ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান আকাশের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ৩টি মামলা রয়েছে। খুবই অভিনব পন্থায় ভয়ঙ্করভাবে ছিনতাই করে আকাশ। তার প্রধান টার্গেট সিএনজি। অভিনব পন্থায় সে চলন্ত সিএনজির পেছনে উঠে যেত। এরপর সেকেন্ডের মধ্যেই সিএনজির পর্দা কেটে ভেতরে থাকা যাত্রীর ব্যাগ, মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনা ঘটাতে তার সময় লাগে ২০ সেকেন্ড! এর পাশাপাশি গাড়ির জানালার পাশে বসা যাত্রীদের মোবাইল ছিনিয়ে নিতেও সিদ্ধহস্ত আকাশ। জানালার পাশে বসা কোন যাত্রী ফোনে কথা বললে চোখের পলকেই সেটা নিয়ে হাওয়া হয়ে যায় আকাশ। ৩ বছরেই ২ শতাধিক ছিনতাই করেছে সে। ছিনতাই করে ১০ বছর ধরে জড়িত সে ছিনতাই কাজের সাথে। আগে সে নারী ছিনতাইকারী ফারজানার গ্রুপে কাজ করত। পরে ফারজানার গ্রুপ থেকে বের হয়ে এখন নিজেই করে এ কাজ।

গ্রেপ্তারের পর আকাশ জানায়, ছিনতাই কাজের একটি ভাগ প্রতি সপ্তাহেই কথিত পুলিশের সোর্স বলে পরিচয় দেয়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও তাজুলকে দিতে হয়। পুলিশের অভিযানেও এই তথ্যের সত্যতা মেলে। উদ্ধার ৮টি ডায়মন্ডের দুটি পাওয়া গেছে আকাশের স্ত্রী তানিয়ার কাছে, ৩টি পাওয়া গেছে আনোয়ারের কাছে এবং বাকি তিনটি পাওয়া গেছে তাজুলের কাছ থেকে।

ডবলমুরিং থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া তানিয়া আকাশের স্ত্রী। তিনি আকাশ সম্পর্কে সবই জানেন। সব জেনেই বিয়ে করেন কম বয়সী আকাশকে। শুধু জেনেই বসে থাকেননি, স্বামীর অপকর্মে সহযোগিতাও করেছেন সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে। আকাশ ছিনতাইয়ের পর সব মালামাল জমা রাখত স্ত্রীর কাছেই। আবার স্বামী ধরা পড়লে আদালত পাড়ায় ছুটতেন স্ত্রী তানিয়া। আকাশ আগেও তিনবার গ্রেপ্তার হয়। প্রতিবারই জামিন করান স্ত্রী তানিয়া।

পূর্বকোণ/এএ/এএইচ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 573 People

সম্পর্কিত পোস্ট