চট্টগ্রাম বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১

সর্বশেষ:

২৫ জুন, ২০২১ | ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বে-টার্মিনালের ৮০৩ একর ভূমি মিলেছে নামমাত্র মূল্যে

অবশেষে বহুল কাঙ্ক্ষিত বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার সুরহা হলো। এ কাজে প্রয়োজনীয় ৮০৩ একর খাস জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার ভূমি মন্ত্রণালয় অধিগ্রহণ-২ এর উপসচিব মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে ভূ-সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনে ওই ৮০৩ একর জায়গা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সচিবকে হস্তান্তর করতে অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের জটিলতার অবসান ঘটলো।

এছাড়া ওই ভূমির মধ্যে ৮০২ একর সরকারি খাস জমি হওয়ায় বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যেই বন্দর পাচ্ছে হাজার কোটি টাকার জায়গা। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর তার নিজস্ব তহবিল থেকে বে টার্মিনালের জন্য ৬৮ একর জমি কিনেছিল। কিন্তু  কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত ৮০৩ একর খাস জমি অধিগ্রহণের জন্য আটকে ছিল। সর্বশেষ মঙ্গলবার ব্যক্তি মালিকানাধীন দশমিক ৭৯ একরসহ মোট ৮০৩ দশমিক ১৭ একর ভূমির অনুমোদন পেয়ে এই প্রকল্প আশার আলো দেখলো।

পরবর্তী ধাপে এখন জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণের ৭ ধারায় অবকাঠামোর থাকা সাপেক্ষে তার মূল্যমান নির্ধারণ করবে। গণপূর্তসহ বিভিন্ন সংস্থার সরেজমিন সার্ভে শেষ নির্ধারণ করা মূল্য পরিশোধের জন্য বন্দরের কাছে ৮ ধারা নোটিশ জারি করবে। এর ১২০ দিনের মধ্যে নামমাত্র মূল্যে পাওয়া অর্থ বন্দর পরিশোধ করবে। এছাড়া টাকা পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকেরা তাদের পাওনা বুঝে নিয়ে জায়গা ছাড়বেন। বন্দরকে সেই জায়গা হস্তান্তর করবে জেলা প্রশাসন। এরপরেই শুরু হবে বে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ।

বন্দর সূত্র জানায়, প্রায় ৫০ লাখ টিইইউস কনটেইনার ধারণক্ষমতার বে টার্মিনাল প্রকল্প আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া ও সৌদি আরবসহ ৭টি দেশ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩টি টার্মিনালের একটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এককভাবে এবং অপর দুটি বিল্ড-অপারেট এন্ড ট্রান্সফার (বিওটি) ভিত্তিতে নির্মিত হবে। যা চালু হবে ২০২৬ সালের মধ্যে।

ভূমি জটিলতার অবসান প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. উমর ফারুক পূর্বকোণকে বলেন, বে টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ বন্দর কর্তপক্ষ অনেক আগেই হাতে নিয়েছে। বন্দরর নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮ একর জায়গা কিনে নিয়েছিল এবং বাকিটা সরকারি খাস জমি হওয়ায় ভূমি উন্নয়নের কাজ চলমান ছিল। এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বে টার্মিনাল প্রকল্পে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ট্রাক টার্মিনালে কাজ চললেও ভূমি পাওয়ার সাথে সাথে মূল বে টার্মিনাল নির্মাণের নকশা ও অন্যান্য কাজ শুরু হয়ে যাবে। এর ফলে বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দর হবে প্রথম সারির বন্দর। জাহাজ জট বলে কিছু থাকবে না। পণ্য পরিবহন খরচ কমে যাবে। এর সুফল পাবে পুরো দেশ।

প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে পতেঙ্গা থেকে হালিশহর এলাকার সাগর উপকূলে টার্মিনালটি নির্মাণের সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগানোর প্রকল্প নেওয়া হয়। অপার সম্ভাবনার এই প্রকল্পে থাকবে রেল, সড়ক, নৌ পথের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, বে টার্মিনাল হলে প্রায় ১২ মিটার ড্রাফট এবং ২৮৫ মিটার দৈর্ঘের ৫ হাজার টিইইউস ধারণ ক্ষমতার জাহাজ এখানে ভেড়ানো যাবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের জট অনেকাংশে কমে যাবে। সময় ও আমদানি-রপ্তানি খরচও কমবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1117 People

সম্পর্কিত পোস্ট