চট্টগ্রাম বুধবার, ০৪ আগস্ট, ২০২১

সর্বশেষ:

২১ জুন, ২০২১ | ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

চট্টগ্রামের ৪০১ ইটভাটায় ৩২% ভূমি কর অনাদায়ী

চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ৪০১টি ইটভাটার ভূমি উন্নয়ন করের (খাজনা) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৬ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত এক বছরে (এপ্রিল ২০২০-এপ্রিল ২০২১) খাজনা আদায় হয়েছে ৫৪ লাখ ২১ হাজার ৯১১ টাকা। অর্থাৎ ৬৮ শতাংশ খাজনা আদায় হয়েছে। এরমধ্যে শতভাগ কর আদায় হয়েছে মিরসরাই, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী উপজেলায়। অন্যদিকে, বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া এই তিন উপজেলায় ভূমি কর আদায় হয়নি এক টাকাও।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০১টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটার সংখ্যা ৮১টি। অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ৩২০টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। তবে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় হয়েছে ৫৪ লাখ ২১ হাজার ৯১১ টাকা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাজমুল আহসান পূর্বকোণকে বলেন, ‘ইটভাটা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় না হলে অবৈধ ইটভাটার মালিকেরা আরও উৎসাহিত হবে। তাই ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের জন্য ইউএনও ও ভূমি কর্মকর্তাদের জোরালো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

পরিবেশ আইনে বলা হয়েছে, ইটভাটাকে পরিবেশ উপযোগী করতে ভাটার চিমনির উচ্চতা ১২০ ফুট এবং চিমনি তৈরিতে জিগজ্যাগ কিলন, হাইব্রিড হফম্যান কিলন, ভার্টিক্যাল স্যাফট কিলন, টানেল কিলন পরিবেশসম্মত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ (১৩ এপ্রিল ২০ থেকে ১৪ এপ্রিল ২১) সালে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি ছিল ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৬ টাকা। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ভূমি কর আদায় হয়েছে ৫৪ লাখ ২১ লাখ ৯১১ টাকা। যা মোট দাবির ৬৮ শতাংশ।

২০১৩ সালের ৫৯ নং আইনে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪ নং ধারায় লাইসেন্স ব্যতিত ইট তৈরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসকের নিকট হইতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে, কোন ব্যক্তি ইটভাটায় ইট প্রস্তুত করিতে পারিবেন না।’

জেলা প্রশাসনের রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, মিরসরাই উপজেলায় দুই লাখ এক হাজার টাকার ভূমি উন্নয়ন করের মধ্যে পুরো টাকাই আদায় করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৬ লাখ ৯০ হাজার ২৯ টাকার দাবিতে আদায় হয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮১ টাকা আদায় হয়েছে। সন্দ্বীপে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮০ টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে মাত্র ৬০ হাজার ৪০ টাকা। ফটিকছড়িতে ১৪ লাখ ১২ হাজার দুইশ টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৫৩৫ টাকা। হাটহাজারীতে ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮৪৪ টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে ৪ লাখ ৭০ হাজার ১৫০ টাকা। রাউজানে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৩ টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩০৩ টাকা। রাঙ্গুনিয়ায় ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৫০৮ টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে ৭ লাখ ২৪ হাজার ১৯০ টাকা। বোয়ালখালীতে ৮৪ হাজার চারশ টাকার মধ্যে পুরোটায় আদায় হয়েছে। পটিয়ায় ১৬ হাজার ১৭৬ টাকার মধ্যে এক টাকাও আদায় হয়নি। কর্ণফুলীতে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে শতভাগ আদায় হয়েছে। আনোয়ারা উপজেলায় সাত হাজার ৯৬০ টাকার মধ্যে এক টাকাও আদায় হয়নি। চন্দনাইশে ৫ লাখ ৬০ হাজার ৩৪৪ টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪৪ টাকা। সাতকানিয়ায় ১০ লাখ নয় হাজার ৭৪০ টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৯৩ টাকা। লোহাগাড়ায় ১২ লাখ ২৮ হাজার ৪৮৮ টাকার মধ্যে আদায় হয়েছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮৭৫ টাকা। বাঁশখালীতে এক লাখ ১৪ হাজার ১৭৪ টাকার মধ্যে এক টাকাও আদায় হয়নি।

জেলা প্রশাসনের রাজস্ব সভায় রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর বলেন, অবৈধ ইটভাটা বন্ধের জন্য সকল ইউএনও ও সহকারী কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নিদের্শনা মেনে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 264 People

সম্পর্কিত পোস্ট