চট্টগ্রাম শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১

সর্বশেষ:

২০ জুন, ২০২১ | ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

প্রিয়দর্শী বড়ুয়া

শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা ও মৎস্যচাষে কারিতাসের উদ্যোগ

ঝিরিতে বাঁধ দিয়ে ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন

শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ, পানির নিশ্চয়তা ও মৎস্য চাষে আমিষের অভাব পূরণের লক্ষ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলার পাহাড়ি ঝিরিতে তিনটি বাঁধ ( স্থানীয় ভাষায় গোদা) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি সংস্থা কারিতাস।

উপজেলার লামা সদর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি চিউনী বৈদ্যপাড়া, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা ও ইয়াংছা এলাকায় এগ্রো ইকোলজি প্রকল্পের অধীনে বাঁধ তিনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। এসব বাঁধ নির্মাণ হলে এলাকায় মাছ চাষের মাধ্যমে আমিষের অভাব পূরণ, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত পানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, সাধারণত বছরজুড়ে পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট থাকে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি, ঝর্না, পুকুর ও নদীর পানি শুকিয়ে যায়। এ কারণে পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে পানির জন্য স্থানীয়দের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে হয়। তাই রুপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পতিত পুকুর পুনর্খননের পর এবার গোদা বা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কারিতাসের এগ্রো ইকোলজি প্রকল্প। এজন্য গঠন করা হয় ১০ বছর মেয়াদি প্রতি বাঁধভিত্তিক ১৫ সদস্যবিশিষ্ট ৩টি মৎস্যচাষি দলও। এ দলের সদস্যগণ গোদা এলাকায় মাছ ও হাঁস চাষের আগ্রহ সৃষ্টি করে স্থানীয়দের স্বাবলম্বী করে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।

এ ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি চিউনী বৈদ্যপাড়ায় বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মো. মামুন সিকদার। উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা বীর সিংহ চাকমা, চিউনী বৈদ্যপাড়া কারবারি উচিং মার্মাসহ প্রকল্পের মাঠ সহায়ক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ইতিমধ্যে বাঁধের উপকারভোগীদের মাছ ও হাঁস চাষের ওপর প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

বাঁধ নির্মাণে মাটিদাতা পতিত জায়গার মালিক বোখাইন মার্মা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার কিছু জায়গা অকেজো পড়েছিল। বর্ষা মৌসুমে ঝিরি বা কুয়ায় পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে মোটেও পানি থাকে না। আশপাশে আর কোন জলাশয় না থাকায় প্রতিবছর এলাকার মানুষকে তীব্র পানি সংকটে ভুগতে হতো। পরে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে কারিতাসের এগ্রো ইকোলজি প্রকল্প কর্মকর্তারা পতিত জায়গার মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বাঁধ নির্মাণ হলে মৎস্য চাষি দলের সদস্যের পাশাপাশি এলাকার সকল শ্রেণির মানুষ সুবিধা ভোগ করতে পারবে বলে জানান পাড়া কারবারি উচিং মার্মা।

বাঁধ নির্মাণের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন বলেন, আমার ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। কারিতাসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

এ বিষয়ে কারিতাস এগ্রো ইকোলজি প্রকল্পের উপজেলা মাঠ কর্মকর্তা মামুন সিকদার বলেন, কারিতাসের অর্থায়নে কৃষিকাজ, নিত্য প্রয়োজনীয় পানি প্রাপ্তি ও মাছ চাষের মাধ্যমে আমিষের অভাব পূরণের লক্ষ্যে লামা সদর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি চিউনী বৈদ্যপাড়ায় বাঁধ নির্মাণের পর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা ও ইয়াংছা এলাকায়ও দুটি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পূর্বকোণ/মামুন/পারভেজ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 201 People

সম্পর্কিত পোস্ট