চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১

৯ জুন, ২০২১ | ১২:৪২ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনা পরবর্তী জটিলতা

করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঠিক দশ দিন পর কোভিড নেগেটিভ হন ডা. এ এ গোলাম মর্তুজা হারুন। অথচ মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় না ফেরার দেশেই চলে যেতে হয় এ চিকিৎসককে। মূলতঃ নেগেটিভ হলেও তাঁর ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। যার দরুণ করোনা পরবর্তী এ জটিলতার কাছেই হার মানতে হয় প্রবীণ এ চিকিৎসককে। ঠিক তার দুইদিন পর ৩০ মে একই জটিলতায় মারা যান আরেক চিকিৎসক ডা. ফরিদুল আলম। গেল কয়েক মাসের চিত্র বলছে, করোনার পরবর্তী জটিলতায় (পোস্ট কোভিড) হঠাৎ করেই চট্টগ্রামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। যারাই মারা যাচ্ছেন তাদের ফুসফুসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।

এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি বয়স্করা থাকলেও বাদ পড়ছেন না মধ্যবয়সীরাও। যদিও সেই সংখ্যা ঠিক কত, সে তথ্য নেই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। তবে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানিয়েছেন, তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। এত গেল মৃত্যুর চিত্র। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের পোস্ট কোভিড ইউনিটের তথ্য বলছে, প্রতিদিনই গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী পরামর্শ নিতে ভিড় করছেন সম্প্রতি চালু হওয়া এ ওয়ার্ডে। মূলত করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠার পরও নানান শারীরিক সমস্যা নিয়ে হাজির হচ্ছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, সবার ক্ষেত্রে তেমন জটিলতা না পাওয়া গেলেও, কারও কারও এ ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদী রোগে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার এ জটিলতা কাটিয়ে ওঠতে দীর্ঘ সময়ও লাগতে পারে। তাই সুস্থ হয়ে ওঠলেও ফলোআপে থাকার পাশাপাশি সচেতন থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পোস্ট কোভিড ইউনিট চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৩২ জন রোগী পরামর্শ নিতে এসেছেন। যারা সবচেয়ে বেশি মানসিক, উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। চট্টগ্রাম জেনারেল    হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিনই ১৫ থেকে ২০ জন রোগী আসছেন, যারা করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। যাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি, দুর্বলতা, মানসিক, হার্ট, কিডনিসহ নানান সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

শুধু এ দুই হাসপাতালেই নয়, চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও করোনার পরবর্তী সমস্যা নিয়ে হাজির হচ্ছেন অনেকেই।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, দুই হাসপাতালের পোস্ট কোভিড ইউনিটের বাইরে বেশি অংশই ব্যক্তিগত চেম্বারে যাচ্ছেন। হাসপাতালে তুলনামূলক কম আসছেন। তবে এসব রোগীদের সংখ্যা ঠিক কত, তার পরিসংখ্যান নেই। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ চলছে।

করণীয় কী :

বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় নীতিমালায় বলা আছে যে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যদি কেউ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন তাহলে সেরে ওঠার পরও তার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। হাসপাতাল থেকে ছাড় পাবার পর কিংবা করোনাভাইরাসের রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরও ফলোআপ করতে হবে।

ডা. আবদুর রব মাসুম বলেন, কোভিড-পরবর্তী সমস্যা স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। তাই সুস্থ হওয়ার পর অবশ্যই চিকিৎসকের ফলোআপে থাকতে হবে। এরমধ্যে যাদের হাসপাতালে ভর্তি বা অক্সিজেন নেয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের অবশ্যই অবশ্যই ফলোআপে থাকতে হবে। না হয় সুস্থ হওয়ার পরও একটু অসতর্কতায় মৃত্যুও ঘটতে পারে। শুধু এসব রোগীই নয়, আক্রান্ত হওয়ার আগেও যারা নানা রোগে ভুগছিলেন তাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, করোনায় আক্রান্ত  থেকে সুস্থ হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর।  এছাড়া যারা আগে থেকেই হাইপার টেনশন, হার্টের জটিলতা, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তাদেরকে চিকিৎসকের পরামর্শ মতে চলতে হবে। খাবারের দিকে খুব নজর রাখতে হবে। সুষম খাবার রাখাও জরুরি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
  • 290
    Shares
The Post Viewed By: 228 People

সম্পর্কিত পোস্ট