চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ অক্টোবর, ২০২১

সর্বশেষ:

৩০ জুন, ২০১৯ | ২:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

লালখানবাজার রণক্ষেত্র

দুই নেতার অনুসারীর দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ২ জনসহ আহত ৭

পুলিশের উপস্থিতিতে নগরীর লালখানবাজারে গতকাল শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতার অনুসারীর মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়েছে। আহত ছয়জনের মধ্যে মনির হোসেন ও মো. মোবারক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত এগারোটা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ থেমে থেমে গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত গড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও রাত নয়টায় (শনিবার) ফের দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বিকেল থেকে পুরো লালখানবাজার এলাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রেখেছেন। থেমে থেমে গুলির শব্দ হওয়াতে সাধারণ লোকজন আতংকে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই গ্রুপের থেমে থেমে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও বায়েজিদ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) পরিত্রাণ তালুকদার জানিয়েছেন, সেখানে তেমন কোন ঘটনা হয়নি। দুই গ্রুপের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাতাহাতি হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি বলে জনিয়েছেন খুলশী থানা পুলিশ।
খুলশী থানার পরিদর্শক (ওসি) প্রণব চৌধুরী জানিয়েছেন, লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলালের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় লোকজন জানান, মাসুমের অনুসারী হানিফ, সুমন, ওয়াসিম ও নিপুর নেতৃত্বে শুক্রবার রাত এগারোটায় বেলালের অনুসারী যুবলীগ কর্মী সাইদুল ইসলামসহ তিনজনের ওপর হামলা করে মাসুমের অনুসারীরা। ওই সময় সাইদুল ইসলাম প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত হয়। রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর প্রতিবাদে খুলশী থানা পুলিশকে অবহিত করে শনিবার বিকেলে লালখান বাজার মোড়ে কর্নার হোটেলের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে বেলালের অনুসারীরা। পুলিশের উপস্থিতিতে মানববন্ধনে মিছিল নিয়ে আসার সময় একটি ভবনের ছাদ থেকে মিছিলকারীদের ওপর ইটের টুকরো নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়। তখন মানববন্ধন ভ-ুল হয়ে যায়। দুই গ্রুপ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
ওসি প্রণব চৌধুরী জানান, মানববন্ধন ও মিছিলের বিষয়টি বেলাল আমাকে জানিয়েছিলো। উনাকে বলেছিলাম মিছিল যেন লোকজন বেশি সমাগম না হয়। কিন্তু লোকজন বেশি হওয়াতে মাসুমের অনুসারীরা ঝামেলা করেছে। ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। আমরা গুলি না ছুড়লে এখানকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক হামিদুর রহমান জানান লালখান বাজারের সংঘর্ষের ঘটনায় ছয়জনকে আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। বাকি চারজনের মধ্যে কারো মাথা আবার কারো শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহতরা হলেন, ইকবাল হোসেন (১৮), রাকিব (১৭), সোহেল (২৩) ও মোহাম্মদ ইমন (১৭)। দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া প্রসঙ্গে ওসি প্রণব চৌধুরী জানান, ‘আমাদের ছোড়া গুলিতে স্লিন্টারবিদ্ধ হয়েছেন দু’জন। এর মধ্যে একজন রিকশাচালক।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 711 People

সম্পর্কিত পোস্ট