চট্টগ্রাম সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

১৮ মে, ২০২১ | ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

সেকান্দার আলম বাবর, বোয়ালখালী

হাসপাতালে নেই তিল ধারণের ঠাঁই

বোয়ালখালীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ

বোয়ালখালীতে গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। দৈনিক তীব্র ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, বমি ভাব নিয়ে গড়ে অর্ধশতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। হঠাৎ করে গরম বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি হয়েছে বলে মনে করছেন বোয়ালখালী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তাছাড়া বোয়ালখালীতে তীব্র ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দেয়ায় যত্রতত্র স্থান থেকে পানি পান করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে হাসপাতালের করিডোরে শয্যা বিছিয়ে রোগীর চাপ সামাল দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে গত শনিবার ৭৯ জন, রবিবার ৮৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে রোগীতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ভ্যাপসা গরমে ফ্যানবিহীন একাধিক করিডোরে স্থান নিয়েছে অন্তত ২৫ জনের অধিক রোগী। অন্যদিকে, নির্ধারিত বেডের পাশে মেঝেতে শয্যা বিছিয়ে রোগী অবস্থান নিয়েছে একটু গরম থেকে বাঁচার জন্য। সুবিধা অসুবিধা নিয়ে রোগীর স্বজনরা একে অপরের সাথে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হতে দেখা গেছে। রোগীরা নিজ স্থান পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে যেন অনীহা দেখাচ্ছে।

ঈদের বন্ধের অজুহাতে সুইপার স্বল্পতায় স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ চারদিকে। সুস্থ মানুষও রোগী হতে যেন বেশিক্ষণ লাগবে না। টয়লেট বাথরুমের অবস্থা ত্রাহি। দুর্গন্ধে যে কারও পেট থেকে নাড়ি ভুঁড়ি বের হওয়ার অবস্থা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্তব্যরত এক নার্স বলেন, বেশিরভাগ রোগী বমি পায়খানা বেডের পাশেই করছে। দোষ কাকে দেবেন? আমরা চেষ্টা করছি সেবা দিতে, একজন সুইপার আর কত পারে পরিষ্কার করতে? কথা হয় সারোয়াতলী ইমামুল্লাহচর থেকে শনিবার পেট ব্যথা ও ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হওয়া আকতার হোসেন (৩৫) এর সাথে। তিনি বলেন, সেবা পাচ্ছি মোটামুটি। স্যালাইন দিয়েছে। রোগী বেশি, তারাও যাবে কোথায়? তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারটি আরও কঠোরভাবে দেখা জরুরি। চরণদ্বীপ পাঠানপাড়া থেকে ভর্তি হওয়া জিন্নাত খান (৪৩) জানান, আজ (সোমবার) ভর্তি হয়েছি। সিট নাই তাই মেঝেতে ফ্যানবিহীন গরমের মধ্যে বেঁচে থাকার যুদ্ধ করছি। এখনও ডাক্তার দেখেনি। নার্সরা দেখেছে। স্যালাইন দিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. জিল্লুর রহমান পূর্বকোণকে জানান, গত এক সপ্তাহে ভর্তি হওয়া রোগীদের ৯০ শতাংশ ডায়রিয়াসহ নানান পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। রোগীর চাপ সামাল দিতে কষ্ট হচ্ছে। বোয়ালখালীতে ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকট, তীব্র গরম, রাস্তার ও হোটেলের বাসি-পচা ও অপরিষ্কার খাবার থেকে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের স্যালাইন সংকট নেই। সংকট পরিচ্ছন্ন কর্মীর। সরকারিভাবে একজনই সুইপার। আউটসোর্সিংয়ে কাজ করে চারজন। তারা ঠিকাদারের অধীনে। আমি গত এক সপ্তাহ আগে একজনকে সাময়িক নিয়োগ দিয়েছি নিজেদের অর্থে। সেও ঈদের অজুহাতে অনুপস্থিত।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 220 People

সম্পর্কিত পোস্ট