চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১

৮ মে, ২০২১ | ১:০০ অপরাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

ভিজিট ভিসায় গিয়ে অনেকেই বেকার

ভিজিট ভিসা (ভ্রমণ ভিসা) নিয়ে ঢালাওভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গিয়ে বিপাকে পড়ছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। ভিজিট ভিসায় গিয়ে পরবর্তীতে ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে, এমন তথ্যের উপর নির্ভর করে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহসহ ইউএই’র বিভিন্ন স্টেটে জন স্রোতের ঢল নেমেছে জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসীরা। তবে যাদের নিকট আত্মীয় বা ঘনিষ্ঠজন রয়েছেন, তাদের কোন না কোন কাজের ব্যবস্থা হলেও, বেকার রয়েছেন প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি। বর্তমানে কাজ না পেয়ে অর্থ সংকটে দেশেও ফিরতে পারছেন না তারা।

করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক লোক সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গেছেন বলে জানা যায়। প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভিজিট ভিসা চালুর পর বানের স্রোতের মত প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি আসেন ইউএই’তে। তবে শুরুতেই যারা এসেছেন তাদের সিংহভাগই চাকরি যোগাড় করে নিয়েছেন এবং তারা পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-কোম্পানিতে ভিসা লাগিয়ে স্থায়ী হয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মী ভিসা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান-কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন দক্ষ লোকবল সংকটে ভুগছিলো। তারা ভারতীয়-পাকিস্তানি লোকজন নিয়ে কোনরকমে তালিজোড়া দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালিয়েছে। ভিজিট ভিসা চালু হওয়ায় প্রতিষ্ঠান-কোম্পানিগুলো প্রয়োজনমত লোক ভিজিট ভিসায় নিয়ে গেছে।

সম্প্রতি ভিজিট ভিসা নিয়ে দুবাই যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের যুবক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই যুবক জানান, এখানে অভাব-অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে অধিকাংশ শ্রমিকের। যাদের কোন আত্মীয় বা ঘনিষ্টজন রয়েছেন, তাদের কোন কাজের ব্যবস্থা হলেও বেকার রয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। যারা অর্থের অভাবে দেশেও যেতে পারছেন না।

তিনি আরো বলেন, গত জানুয়ারি মাসে উপজেলার একই ইউনিয়নের মো. মনির নামের এক যুবক কাজের আশায় আসেন। কাজ না পেয়ে অবশেষে ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন। আমাদের আশেপাশে এখনো অনেক বাংলাদেশি রয়েছেন যারা কাজ না পেয়ে দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য অস্তির হয়ে পড়েছেন কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে যেতে পারছেন না। এছাড়াও, অনেক বাংলাদেশির না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। আগে বিভিন্ন মার্কেটে বাংলাদেশিদের কাজ করার সুযোগ থাকলেও করোনার পর থেকে এ সুযোগ অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে।

চট্টগ্রামের প্রথম সারির কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক লোক ভিজিট ভিসায় ইউএই’তে যাচ্ছেন। ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তাদের হিসেব মতে, দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় লাখের মত লোক দুবাইসহ ইউএই’র বিভিন্ন স্টেটে গেছেন। যাদের মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। ফেরত আসার সংখ্যা খুবই কম।

জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মী ভিসা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৯ বছরে বাংলাদেশ থেকে শ্রম ভিসায় কোন নাগরিক আমিরাতে যেতে পারেননি। এদিকে, দীর্ঘদিন সবধরনের ভিসা বন্ধ থাকার পর গত বছর থেকে আমিরাতে বাংলাদেশিদের জন্য ভিজিট ভিসা চালু হয়। ভ্রমণ ভিসায় আরব আমিরাতে গিয়ে বাংলাদেশিদের ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে কোম্পানির বা ইনভেন্টার/পার্টনার ভিসা লাগানোর সুযোগ থাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশি আমিরাতে পাড়ি জমাচ্ছেন। ভিজিটে গিয়ে কাজের ভিসা, কোম্পানির বা পার্টনার ভিসা লাগানোর সুযোগ থাকায় এ পথে প্রতিদিন পা বাড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
  • 11.4K
    Shares
The Post Viewed By: 13627 People

সম্পর্কিত পোস্ট