চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

সর্বশেষ:

২৩ এপ্রিল, ২০২১ | ১:০৬ অপরাহ্ণ

হারুনুর রশিদ সিদ্দিকী, পটিয়া

হুলাইনের মুসা খাঁ মসজিদ ৪০০ বছর পূর্বে নির্মিত

পটিয়া উপজেলার হুলাইন গ্রামে প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে আজিজ খাঁ রোয়াজা মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁ কর্তৃক নির্মিত চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ নির্মাণের ১০ বছর পূর্বে এই মসজিদটি নির্মাণ শুরু করেন। মসজিদের দেয়ালের সাথে স্থিত শিলালিপিতে আরবি হরফে তা লিপিবদ্ধ আছে। জনশ্রুতি রয়েছে, মসজিদটি সর্বপ্রথম রোয়াজা পুকুর নামে খ্যাত পুকুরের পশ্চিম পাড়ের দক্ষিণ কোণে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে হুলাইন গ্রামের পূর্ব প্রান্তে বর্তমান স্থানে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদের পাশে কবরস্থান ও চারিদিকে পরিখা খনন করা হয়।

চট্টগ্রাম অঞ্চল তখন মগ শাসিত রাজ্য ছিল। পটিয়ার চক্রশালা ছিল তাদের শাসনের কেন্দ্রবিন্দু। অঢেল ভূ সম্পত্তির মালিক ধর্মভীরু আজিজ খাঁ রোয়াজা এই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করার পর কুচক্রীমহল মগরাজাকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কেল্লা তৈরি করা হচ্ছে বলে প্ররোচিত করে তাকে বন্দী করান এবং বন্দী অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তখনকার যুগে মগ শাসিত রাজ্যে অধিক ভূসম্পদের মালিকদেরকে মগরাজা কর্তৃক রোয়াজা উপাধি প্রদান করা হতো।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে মগদের মধ্যে এখনো সেই উপাধি বিদ্যমান আছে। আজিজ খাঁ রোয়াজার ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ সাহেব খাঁ এবং তার পিতা শেরমস্ত খাঁ রাজদরবারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। জনশ্রুতি আছে, মগরাজা আজিজ খাঁ রোয়াজাকে যে কুচক্রী ব্যক্তির মিথ্যা প্ররোচনায় বন্দী করেন তার কারণ ও ভুল বুঝতে পেরেই কুচক্রী ব্যক্তিকে কঠোর শাস্তি প্রদান করেন। শিলালিপিতে আজিজ খাঁ রোয়াজা মসজিদ নাম থাকলেও তারই সুযোগ্য পুত্র মুসা খাঁ মসজিদটি তার পিতার পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ এবং সমস্ত কাজ করায় মসজিদটি মুসা খাঁ মসজিদ নামে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করে।

১৯৫৫ সালে তাঁর মৃত্যুর দীর্ঘদিন পর ১৯৬২ সালে মসজিদের গম্বুজে ফাটল দেখা দেয়। তখন এলাকার শিল্পপতি সালেহ আহমদ চৌধুরী নিজ অর্থায়নে গম্বুজ মেরামত করে মসজিদের বাইরের কাঠামোগত পরিবর্তনসহ চুনকাম করে মসজিদের সংস্কার করেন। মসজিদের ইমাম মৌলানা ফজলুল করিম দীর্ঘ ৩৫ বছর বিনা বেতনে মসজিদের ইমামতি করেছেন। তার নিজের মালিকানাধীন ১০২ শতক জমি মুসা খাঁ মসজিদের নামে ১৯৮১ সালে ওয়াকফ করেন।

এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মসজিদের মুসল্লিদের নামাজের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এলাকার শিল্পপতি নুর মোহাম্মদ চৌধুরী মসজিদটি ভেঙ্গে পুনরায় মসজিদ নির্মাণের আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা বলেন। পরে মরহুম আহমদ হোসেন চৌধুরী ও এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিদের সহয়োগিতায় বড় আকারে প্রথম ও দ্বিতল মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ মসজিদের জন্য জায়গা জমিসহ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। বর্তমানে নেছার আহমদ চৌধুরী সভাপতি ও এডভোকেট মুজিবুর রহমান খাঁন সাধারণ সম্পাদক হিসাবেএ মসজিদ পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 272 People

সম্পর্কিত পোস্ট