চট্টগ্রাম সোমবার, ১৭ মে, ২০২১

সর্বশেষ:

২২ এপ্রিল, ২০২১ | ১:৩২ অপরাহ্ণ

মরিয়ম জাহান মুন্নি 

ভালো নেই নগরীর ৩৬ লাখ মানুষ

নিম্নবিত্তের ঘরে নেই রোজার আমেজ। প্রতিটি ঘরে এখন কোন রকম ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচার প্রচেষ্টা মাত্র। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় সংসারে অভাবের কালো মেঘে ঘেরা প্রতিটি নিম্নবিত্ত পরিবার। চলমান লকডাউনে খরচ বেড়েছে কিন্তু বন্ধ রয়েছে আয়। নগরীর নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা এই তথ্য জানা যায়।  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা প্রায় ৬০ লক্ষ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এর তথ্য মতে ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ রয়েছে। অর্থাৎ ৩৬ লক্ষ ৩৬হাজার মানুষ নিম্নবিত্ত। এরমধ্যে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ বেসরকারি চাকরি করে। আর ব্যবসায় সম্পৃক্ত মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ। করোনায় লকডাউন এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা ও চাকরি বন্ধ তাদের সবার। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় সংসারে অভাব প্রতিটি নিম্নবিত্ত পরিবারে। 

হালিশহর বড়পোল এলাকার বাহার উদ্দিন বলেন,বাইরে লকডাউন কিন্তু ঘরে নেই খাবার। আমরা কাজ করে খাই, কারো কাছে হাত পেতে নয়। আমাদের ঘরে খাবার নেই কিন্তু কেউ নেই খবর রাখার। কাজ থাকলে এমন পরিস্থিতিতে আমাদের পড়তে হতো না। রোজায় আগে যে আনন্দ হতো এখন আর সেই আনন্দ নেই। এখন পরিবার নিয়ে কোন রকমে খেয়ে বেঁচে আছি। তিনি পেশায় একজন খুদে ব্যবসায়ী। ভ্যানে করে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় নারী-পুরুষদের পোশাক ও জুতা বিক্রি করেন। রমজান মাসে তার এ ব্যবসা বেশ জমজমাট। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে গেল বছরের মত এবছর রমজানেও বন্ধ তার ব্যবসা। তাই আর্থিকভাবে অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

নির্মাণ শ্রমিক সবুজ বলেন, আমরা দিনমজুর কাজ চললে প্রতিদিন হাতে টাকা আসে আর পেটে ভাত জুটে। কাজ বন্ধ থাকলে টাকা থাকে না। করোনার কারণে আমাদের কাজ নেই। আমাদের সীমিত আয়ে জমা থাকে না টাকা। তবুও যে অল্প কিছু টাকা ছিল সাথে ধার-দেনা করেই চলছি এখন। লকডাউনে আমাদের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। গতবছর লকডাউনে বাজে দিন অতিবাহিত করেছি। তাই এবছর লকডাউনের আগেই পরিবারকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। কারণ লকডাউনে কাজ থাকবে না। এখানে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।

সেলাই দোকানে কাজ করেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, রমজানে দর্জিদের কাজের চাপ বেশি থাকে। তাই আয়ও বেশি হয়। খুব ভালো কাটে আমাদের এ সময়টা। কিন্তু গেল বছর ও এবছর খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আগে রোজায় ইফতারে রাজকীয় ভোজন হতো। এখন কোন রকমে দিন কাটাচ্ছি। এছাড়া আমার সন্তান অসুস্থ তার চিকিৎসাও করাতে পারছি না টাকার অভাবে। এভাবেই কাটছে আমাদের রমজান।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 314 People

সম্পর্কিত পোস্ট