চট্টগ্রাম সোমবার, ১০ মে, ২০২১

১৮ এপ্রিল, ২০২১ | ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড

মসজিদ্দা এলাকার নামকরণ হাম্মাদিয়া মসজিদ থেকে

সীতাকুণ্ডের কুমিরা মসজিদ্দা এলাকায় অবস্থিত হাম্মাদিয়া মসজিদটি চট্টগ্রামের প্রাচীন মসজিদগুলোর একটি।  আনুমানিক ৫ শতাধিক বছর আগে সুলতানী আমলে এটি নির্মিত হয়। ফলে এর সাথে জড়িয়ে আছে অনেক   ইতিহাস- ঐতিহ্য। আছে নানা বিশ্বাসও।  তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে পুরোনো নকশার মসজিদ। এখন সেই স্থানে নির্মিত হয়েছে নতুন কাঠামো।  তবে এখনো প্রাচীনকালের সেই ধারাবাহিকতায় নামাজ হয় নিয়মিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের ছোটকুমিরার মসজিদ্দা নামক স্থানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই সুলতানী আমলে নির্মিত হয়েছিলো এলাকার সবচেয়ে প্রাচীন হাম্মাদিয়া মসজিদ।  এলাকাবাসীরা জানান, সেসময় ঐ এলাকায় আর কোন মসজিদ ছিলো না। তাই মসজিদটি নির্মাণের পর এলাকাটির নাম হয়ে উঠে মসজিদিয়া।  পরবর্তীতে আরো সংক্ষেপে এ এলাকাটি মসজিদ্দা নামে পরিচিতি লাভ করে।  সরেজমিনে এই মসজিদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী সুপ্রাচীন মসজিদটির পুরোনো সেই অবকাঠামো এখন আর নেই। সময়ের প্রয়োজনে এটি বদলে ফেলা হয়েছে।  কিন্তু এর ইতিহাস এখনো রয়েছে অটুট।

মসজিদটি নির্মাণের ইতিহাস খুঁজে জানা যায়,  সীতাকুণ্ডের হাম্মাদিয়া মসজিদটিকে চট্টগ্রাম জেলার বর্তমান মসজিদগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীন মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলার শেষ হোসেন শাহী বংশের সুলতান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৫৩৩-১৫৩৮) সময় এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। তবে এলাকায় এটি নিয়ে নানান কথা প্রচারিত আছে। প্রবীন ব্যক্তিদের  অনেকে এটিকে গায়েবী মসজিদও বলে থাকেন।   তবে কেন গায়েবী বলা হয় সে বিষয়ে এখন নানান জন নানা মত ব্যক্ত করেন। এদিকে এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি ভেঙে এখন নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে।

তবে এখনো মসজিদটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট। এটি বর্গাকার ইমারত এবং এর বাইরের চার কোণায় আছে চারটি সংযুক্ত চোঙ্গাকৃতির গোলাকার বুরুজ। রয়েছে মেহরাবের বাইরের দিকে একটি গোলাকৃতির বৃহৎমিনার ও এর উপরে স্থাপিত ক্ষুদ্রাকৃতির বুরুজ। চতুর্পাশের মিনারগুলোর ব্যাস সমান হলেও মেহরাবের বাইরের মিনারটির ব্যাস বেশি। মসজিদের দেয়াল পৌনে ৪ হাত পুরু এবং তা পলেস্তার ও চুনকাম করা।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আবদুল করিমের মতে সুলতানী আমলে কুমিরা থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত একটি রাজপথ ছিল। দুইটি মসজিদ ছিলো এই রাস্তার দুই প্রান্তে। একটি সীতাকু-ের মসজিদ্দায় আর অপরটি হাটহাজারীতে। সেই সময় হাম্মাদিয়া মসজিদটি সুপরিচিত হয়ে উঠে দ্রুত। কারণ, এটি ছিলো একেবারেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে।  পরবর্তী সময়ে এই মসজিদের উপর দিয়ে অনেক ঝড় বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় বয়ে গেলেও মসজিদটি সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে।  কুমিরা মসজিদ্দা এলাকার বাসিন্দা প্রবীন ব্যক্তি এই মসজিদের মুসল্লি মো. কামাল উদ্দিন বলেন, মসজিদটি নিয়ে বলতে গেলে অনেক কথাই থাকে। এটি সুলতানী আমলে তৈরী হওয়া একটি ঐতিহ্য।  

একসময় এর গম্বুজটি ছিলো খুবই সুন্দর। যদিও পরবর্তী সময়ে মসজিদ সংস্কারের প্রয়োজনে এর নঁকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মুরব্বীদের কাছে শুনেছি এই মসজিদটি গায়েবী। তখন ঐ স্থানে গায়েবীভাবে আজান শোনা যেত।  এছাড়া অলৌকিক কিছু ঘটনাও ঘটছে সেসময়। এসবের কারণেই সুলতানী আমলের শাসকরা এখানে এসে মসজিদটি স্থাপন করেন। মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়ে মসজিদে গেলেও দায়িত্বশীল কারো সাক্ষাত মেলেনি। এ মসজিদটির বিষয়ে কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, হাম্মাদিয়া মসজিদ এ এলাকার প্রাচীন মসজিদ। সুলতানী আমলে তৈরি হওয়ার পর থেকে এটিতে নিয়মিত নামায পড়েন মুসল্লিরা। মাঝখানে এর সংস্কার কাজ করা হয়।  ফলে এটির অবকাঠামোর কিছু পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ সরকারি খাস জমির উপরে নির্মিত।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 494 People

সম্পর্কিত পোস্ট