চট্টগ্রাম সোমবার, ১০ মে, ২০২১

১৮ এপ্রিল, ২০২১ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম 

মিলছে না দুধের ন্যায্য দাম

একে তো রমজান মাসে মিষ্টির চাহিদা কম থাকার কারণে দুধের চাহিদা কমে যায়। এরমধ্যে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো যোগ হয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউন। যে কারণে মিলছে না দুধের ন্যায্য দাম। অপরদিকে, গো-খাদ্যের দাম ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে। এ কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।

চিটাগং ডেইরি ফার্ম এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ আরেফিন এম দোভাষ পূর্বকোণকে বলেন, অন্যান্য সময় রমজান মাসে তরল দুধের চাহিদা বেড়ে যেত। কিন্তু এবারের রমজানে তা বলতে গেলে চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। তাছাড়া মিষ্টির দোকানগুলিও দুধ কেনা কমিয়ে দিয়েছে।

একদিকে, গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম। অপরদিকে উৎপাদিত দুধ ন্যায্য দামে বিক্রি করতে না পেরে অনেক খামারির পথে বসার দশা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের টানা প্রকোপের কারণে জনসাধারণের ক্রয় ক্ষমতাও অনেক কমে গেছে উল্লেখ করে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে রমজান মাসে তরল দুধের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত, ছোট-বড় মিলে প্রায় পৌনে চার হাজার ডেইরি খামার আছে। যেখানে দৈনিক সাত থেকে আট লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে শহরের মিষ্টি উৎপাদন কারখানাগুলো দিনে তিন লাখ লিটারের বেশি দুধ সংগ্রহ করতো।

এছাড়া ১৫টি উপজেলায় ছোট বড় মিষ্টির দোকানগুলোও দৈনিক কয়েক লাখ লিটার দুধ কিনে। কিন্তু এই বিশাল পরিমাণ দুধ বাজারজাত করার সুযোগ এখন নেই। বিশেষ করে লকডাউনের কারণে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে গেছে। তাছাড়া প্রত্যন্ত এলাকা থেকে একসময় গোয়ালা গিয়ে দুধ সংগ্রহ করে উপজেলা সদর কিংবা শহরে এনে বিক্রি করতো।

লকডাউনের কারণে যানবাহন সুবিধা কমে যাওয়ায় গোয়ালারা এখন প্রত্যন্ত এলাকায় দুধ কিনতে যায় না। যেকারণে খামারিরা নিজ এলাকায় কম দামে দুধ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে দুধ বিক্রি করতে না পারলে তা নষ্ট হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনোয়ারার জুঁইদণ্ডী এলাকায় কোন কোন খামারি দুধ বিক্রি করছেন লিটার ৪০ টাকায়। এরকম অনেক প্রত্যন্ত এলাকা আছে যারা নিরুপায় হয়ে কম দামে দুধ বিক্রি করছেন। তাতে তাদের মজুরি দূরে থাক গরুর খাদ্যের দামও উঠছে না।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি চট্টগ্রামসহ সারাদেশে দুধ, ডিম এবং মাংস বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। খামারি থেকে সরাসরি সংগ্রহ করে সরকারি ভ্যানের মাধ্যমে শহরে বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়। এই উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। চট্টগ্রাম সরকারি ভ্যানের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য যেখানে ৪১ সেলস ভ্যান প্রয়োজন সেখানে মাত্র ৬টি ভ্যানে দুধ এবং চারটি ভ্যানে ডিম এবং মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। খামারিদের অভিমত, উপজেলা ভিত্তিক সেলস সেন্টার এবং ফ্রোজেন ভ্যান সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হলে দুধ সংরক্ষণ করার সুযোগ থাকতো। তাতে দুধ সরবরাহের সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকতো না। কম দামে দুধ বিক্রি করতে তারা আর বাধ্য হতেন না।

জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক পূর্বকোণকে বলেন, চট্টগ্রাম শহর হচ্ছে একটি মেট্টোপলিটন শহর। এখানে অন্য জেলার মত ১০টি ভ্যান দিয়েছে। বন্দর নগরীতে আরো ভ্যানের প্রয়োজন একথা তিনি তার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 145 People

সম্পর্কিত পোস্ট