চট্টগ্রাম বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

৭ এপ্রিল, ২০২১ | ৪:১৫ অপরাহ্ণ

শাহজাহান কবির সাজু, পানছড়ি

পানছড়িতে সুপেয় পানির হাহাকার

উপজেলার রোহিন্দ্র কার্বারীপাড়া, মরাটিলা, জিরানীহলা, পাইয়ংপাড়া, উল্টাছড়ি, কালানাল, ফাতেমানগর, চিকন চানপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার লোকজন অভ্যস্ত কুয়োর পানি পানে। কুয়োর পানি যে ফুটিয়ে পান করতে হয় সেটাও তারা জানে না। বিশেষ করে ১ নং লোগাং ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের চিকনচান কার্বারীপাড়ার কোমলমতি শিশুরা কুয়োর পানি পান করে নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায়সময়।

এলাকার স্থানীয়রা জানান, শীতকালে কুয়োর পানি অল্প থাকলেও কোনরকম পান করা যায়। কিন্তু বর্ষার সময়ে কুয়োতে বাহিরের পানি ঢুকে ঘোলা হয়ে সেটা পানের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এলাকার কানাই ত্রিপুরা, লক্ষীপ্রিয়া ত্রিপুরা, আনন্দ মোহন ত্রিপুরা জানায়, শীতকালে পানি কম, বর্ষাকালে কষ্ট। আমরা যে পানির সমস্যায় আছি সেই খবর তো কেউ রাখে না। শিশু শ্রেণিতে পড়ুয়া লিমা ত্রিপুরা ও মনবিকাশ ত্রিপুরা জানায়, সারাবছর তারা কুয়োর পানি পান করে।

এলাকার সংস্কৃতিকর্মী সাগর চাকমা জানান, অনেক পরিবার আছে যারা কুয়োর পানি পান করে। তারা ময়লা পানিটা ফুটিয়ে পর্যন্ত পান করে না। প্রশাসনকে নজর দিতে দাবি জানান তিনি।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য সাধন কুমার চাকমা জানায়, শতাধিক পরিবার আছে যারা কুয়োর পানি পান করে। বিদ্যালয় পড়–য়ারাও কুয়োর পানি পানে অভ্যস্ত। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এসব এলাকার খবর নেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এসব তথ্য দিয়ে সহযোগিতা দেয়ার কথা থাকলেও এ ধরনের তথ্য দিচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব এলাকার নামের তালিকা হাতে আসেনি, তারা এখনো সুপেয় পানি পান করতে পারছে না। তবে এ ব্যাপারে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 99 People

সম্পর্কিত পোস্ট