চট্টগ্রাম বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

৭ এপ্রিল, ২০২১ | ১২:৩১ অপরাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনও ঢাকামুখী

নগরীর আকবরশাহ এলাকায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মিজান নামে এক যুবক সম্প্রতি ভর্তি হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। কিন্তু তার পুড়ে যাওয়ার ক্ষত ৪৮ শতাংশের বেশি হওয়ায় প্রেরণ করা হয় ঢাকাতে। মূলত সীমাবদ্ধতার কারণে আগুনে পোড়া বা দগ্ধ কোন রোগীর ৩০ শতাংশের বেশি হলে চট্টগ্রামে চিকিৎসা দেয়া দুষ্কর। যদিও শেষ পর্যন্ত ঢাকায় যাওয়ার পথে মৃত্যুর কাছেই হার মানতে হয় মিজানের।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের আগুনে পোড়া বা দগ্ধ রোগীর চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসা চমেকের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। অথচ সেখানে এখন পর্যন্ত বার্ন রোগীদের জন্য আইসিইউ শয্যা স্থাপন হয়নি। প্রতিদিনই শয্যার চেয়ে রোগী ভর্তি থাকছেন দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত। অথচ বৃহত্তর চট্টগ্রামে যে পরিমাণ রোগী আগুনে বা দগ্ধ হচ্ছেন, তাতে প্রয়োজন বৃহৎ একটি বার্ন ইনস্টিটিউ। এইতো গেল আগুনে পোড়া বা দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার অবস্থা। বৃহত্তর চট্টগ্রামে স্ট্রোক রোগীর সংখ্যা যে পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু তাদের চিকিৎসায় নেই সময় উপযোগী কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল। চট্টগ্রাম বিভাগের উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও নেই আলাদা নিউরোলজি ওয়ার্ড ও চিকিৎসকও। এছাড়া ৫ জেলার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভাগ থাকলেও বিশাল জনগোষ্ঠীর নিউরোলজির স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগকে।

দেশে হৃদরোগীদের মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলেই আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। রাজধানী ঢাকায় পৃথক পৃথক ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে। তারমধ্যে শুধুমাত্র হৃদরোগীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি দু’টি হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু দেশের সচচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রামে নেই কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল।

হৃদরোগ, বার্ন কিংবা নিউরোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ কোন বিশেষায়িত চিকিৎসা এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি চট্টগ্রামে। এরমধ্যে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, কিডনি ইনস্টিটিউটসহ পৃথক কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষদের ঢাকায় ভর করতে হচ্ছে। আবার যাদের আর্থিক স্বচ্ছতা রয়েছে, তারা পাড়ি দিচ্ছেন বিদেশেও। এমন বাস্তবতায় বৃহত্তর চট্টগ্রামে পরিকল্পিতভাবে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির পূর্বকোণকে বলেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে এখনও চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ অঞ্চলে পৃথক হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হলে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে।

এমন বাস্তবতায় আজ ৭ এপ্রিল পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২১। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘একসাথে একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান বিশ^ গড়া’। এই উপলক্ষে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সকলের সুস্বাস্থ্য অর্জনের জন্য এবং কাউকে পেছনে না রেখে স্বাস্থ্য অসাম্য দূর করতে এবং পদক্ষেপের জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, চট্টগ্রামে অসংখ্য দক্ষ চিকিৎসক রয়েছেন। কিন্তু তাদের কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। হাসপাতালগুলোকে আরও সমৃদ্ধ ও সেবার পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। এজন্য সরকার অবশ্যই চট্টগ্রামের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। বৃহত্তর এ জনগোষ্ঠির জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আরও বেশি উন্নত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের বসবাসের জায়গা সৃষ্টি করে দিতে হবে। তাহলে মানুষ চিকিৎসার জন্য রাজধানী কিংবা বিদেশে পাড়ি দেবে না।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 187 People

সম্পর্কিত পোস্ট