চট্টগ্রাম রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

৭ এপ্রিল, ২০২১ | ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের আয় বৃদ্ধি মানেই বৃদ্ধি চসিকের আয়

বন্দরের তহবিল থেকে ১% অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী পদক্ষেপ: আবদুল করিম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে বন্দর তহবিলের ১ শতাংশ অর্থ প্রদানের সরকারি সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সাবেক মুখ্য সচিব ও পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম বলেছেন, মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্তে ‘বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন’র খসড়া অনুমোদন চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সিদ্ধান্তের পেছনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের বিশেষ অবদান রয়েছে। তিনি এই দাবি আদায়ে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সমন্বয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে ব্যাপক জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক পূর্বকোণের সঙ্গে একান্ত প্রতিক্রিয়াসূচক আলোচনায় সাবেক মুখ্য সচিব এসব কথা বলেন।
আবদুল করিম বলেন, আমাদের দেশকে একসময় তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ বলা হতো। ১৯৭৫ সালে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হই। ওই অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে নানা প্রতিকূলতার ভেতরেও আমরা উন্নতি করতে থাকি। সাম্প্রতিক স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার যেসব শর্ত রয়েছে বাংলাদেশ তা পূরণ করতে পারায় জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট থেকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ পেয়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধির হার, মাথাপিছু আয় ও সামাজিক উন্নয়ন সূচক বেড়েছে। ফলে মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার।
আমরা সবাই জানি চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি। দেশের সিংহভাগ রাজস্ব আয় হয় এই চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস দিয়ে। অতীতে ‘নগর শুল্ক’ নামে একটি শুল্ক ছিল। যেটি পরবর্তীতে আইন করে বাতিল করা হয়। কিন্তু বন্দরের সকল যানবাহন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সেবা নিয়ে থাকে। সুতরাং বন্দরের আয়ের ১ শতাংশ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নগরীর উন্নয়নের কাজে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করি। সিটি কর্পোরেশনে উন্নয়নে ও চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নে এই অর্থ বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এর পেছনে যিনি জোরালোভাবে কাজ করেছেন তিনি হলেন প্রাক্তন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। তিনি চট্টগ্রামবাসী থেকে ধ্যনবাদ পাওয়ার দাবিদার।
বন্দরের আয়ের যে ১ শতাংশ অর্থ সিটি কর্পোরেশনের ফান্ডে যুক্ত হবে তা সিটি কর্পোরেশনের সামগ্রিক আয়ের মধ্যেই যুক্ত হবে। তাই বিশেষ কোনো খাতে এই অর্থ ব্যয়ের বাধা-ধরা নিয়ম নেই। তবে আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হবে সিটি কর্পোরেশনের যেসব সেবা বন্দর নিয়ে থাকে, সেবার মান বাড়ানোর কাজে এই অর্থ ব্যয় করা। কারণ এতে উভয়েরই লাভ হবে। বন্দর যা আয় করবে তার ১ শতাংশ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পাবে। এখন বন্দরের আয় বৃদ্ধি মানে সিটি কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধি।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 681 People

সম্পর্কিত পোস্ট