চট্টগ্রাম বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

৯ মার্চ, ২০২১ | ২:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বোয়ালখালী পৌরসভা: দলীয় প্রার্থী নিয়ে গলদঘর্ম আ. লীগ

বোয়ালখালী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগের গলদঘর্ম অবস্থা। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল নয় জনে। গতকাল তৃণমূলের সভায় সমঝোতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী করানোর চেষ্টা করেছিল জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। কিন্তু সমঝোতা বৈঠকে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

গতকাল সোমবার বিকেলে পৌর সদর গোমদন্ডী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থিতার বিষয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে আ. লীগ। পরে উপজেলা ডাকবাংলোয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নয়জনকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। অথচ নির্বাচনী আইনে উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচন পূর্ব সময়ে সার্কিট হাউস, ডাকবাংলো বা কোনো সরকারি কার্যালয় ব্যবহার করতে পারবে না। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, ‘ডাকবাংলো ব্যবহার করে প্রচারণা করতে পারবে না। আচরণবিধিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’

সভায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের দলীয় মনোনয়নের দাবি ছিল তৃণমূলের। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘তৃণমূলের সভা থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের নাম কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে।’ আজকের মধ্যে (মঙ্গলবার) নাম কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

সভায় নয়জন মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজেদের নাম ঘোষণা করেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন আগ থেকেই মাঠে সরব ছিলেন। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল নয়জনে। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন সহ সভাপতি যথাক্রমে সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম বাবুল, মনছুর আলম পাপ্পী, মো. শফিউল আলম, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ ঈছা, পৌর আ. লীগের আহ্বায়ক জহুরুল আলম (জহুল), কৃষক লীগের সভাপতি শফিকুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. ওয়াসিম মুরাদ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নান, যুবলীগ নেতা সেলিম উদ্দিন।

২০১৯ সালের ১৯ জুন পৌরসভা নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়। মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে নির্বাচন। নির্বাচন না হলেও মাঠে সরব ছিলেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পোস্টার-ব্যানার, রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী আবহ চলে আসছে। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীজটে পড়েছে আওয়ামী লীগ। তবে সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম বাবুল, শফিউল আলম, মনছুর আলম পাপ্পী ও পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জহুরুল আলম (জহুর) দীর্ঘদিন ধরে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। কয়েক মাস আগে এই প্রার্থীকে এক মঞ্চে দাঁড় করান সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ। পৌর নির্বাচনে একক প্রার্থীর পক্ষে শপথ করান তাদের। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা আরও বেড়ে গেছে।

গত পৌর নির্বাচনে জহুরুল ইসলাম ও রেজাউল করিম বাবুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবার একক প্রার্থী করাতে কোমর বেঁধে মাঠে নামার পরও তা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম বাবুল বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের জন্য অনেক শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছি। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় দলের জন্য ত্যাগ করেছি। দলীয় সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করছেন। সেই হিসাবে আমিই দলীয় মনোনয়ন পাবো বলে আশা করছি।’

মনছুর আলম পাপ্পী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে ছিলাম। আশা করছি, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।’

পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জহুর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাদের দল মূল্যায়ন করবে বলে আশা করছি। একই সঙ্গে সুদিনের প্রার্থীদের দল মনোনয়ন দেবে না বলে আমাদের বিশ্বাস রয়েছে।’

শফিউল আলম নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সাবেক চেয়ারম্যান এম এ ঈসা বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে শ্রম দিয়েছি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সঙ্গে ছিলাম। দল সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতাদের সুযোগ দিচ্ছে। আশা করছি, দল ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে।’

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ১৮ মার্চ, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ মার্চ, প্রত্যাহার ২৪ মার্চ ও ভোটগ্রহণ ১১ এপ্রিল। সবকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
  • 63
    Shares
The Post Viewed By: 427 People

সম্পর্কিত পোস্ট