চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১

৫ মার্চ, ২০২১ | ২:৫০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদাদাতা, বাঁশখালী

বাঁশখালীতে অযত্ন অবহেলায় বধ্যভূমি দুটি

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সংগ্রামে যারা হানাদার বাহিনীর নির্যাতন ও গুলিতে নিহত হয়েছেন তাদের স্মৃতিস্তম্ভ এখনো নির্মিত হয়নি। অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে সে সমস্ত শহীদদের কবর। বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজ মূল ভবন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ২৬ জন ও বাণীগ্রামের মধ্যপাড়া বড় পুকুর এলাকায় ২২ জন মুক্তিকামী মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাকহানাদার বাহিনী গুলি করে হত্যা ও গর্ত খনন করে জীবন্ত কবর দেন।

১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে বীর শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামে ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমান্ড ও বাঁশখালীর  কমান্ডার (যুদ্ধকালীন) মরহুম মুক্তিযোদ্ধা খোন্দকার মোহাম্মদ ছমিউদ্দীনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাণীগ্রামে ছোট আকারে ভিত্তিপ্রস্তর  স্থাপন করেন। এই ফলক উম্মোচন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক।

মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মে মাসের ২য় সপ্তাহে কালীপুর পালেগ্রাম ও কোকদন্ডী প্রবেশ করে পাকিস্তানি সৈন্যরা। শান্তিবাহিনীর চেয়ারম্যান সমশু মিয়ার নেতৃত্বে পাকিস্থানী সৈন্যরা ঐ সময় ৩০ জনকে আটক করে বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন পাহাড়ে নিয়ে যায়। তাদেরকে গুলি করে ও গর্ত খনন করে মাটিচাপা দিয়ে হত্যা করে। নিহতরা হলেন, ময়মনসিং জেলার রজনীকান্ত দেবনাথ, গিজেন্দ্র দেবনাথ, অরুন দেবনাথ, সাধনপুরের সরোজ দত্ত, কালীপুরের পিন্টু দত্ত, নিহারেন্দু দত্ত, বিমল ঘোষ, ফকির চাদ পাল, যোগেশ চন্দ্র পাল, পালেগ্রামের প্রতাপ দত্ত, তারেক দত্ত, কোকদন্ডীর শুয়াধর এবং নাম না জানাসহ কোকদন্ডী, পালেগ্রামের ২৬ জন।

এরপর সৈন্যরা রাজাকারদের সহযোগিতায় ১৯ মে সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম মধ্যপাড়ার বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে ধরে এনে  বাণীগ্রামস্থ বড় পুকুর পাড়ে গুলি করে ও গর্ত খনন করে কবর দেন। তৎমধ্যে একই পরিবারের পিতা পুত্রসহ ৩ জন রয়েছে। নিহতরা হলেন সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামের বিনোদ বিহারী  চৌধুরী, তার পুত্র সুশান্ত মোহন চৌধুরী ও সুধাংশু বিমল চৌধুরী,  রাশুতোষ দাশ গুপ্ত, ক্ষিতিশ চন্দ্র দে, অমৃত রঞ্জন দে, বিভুতি রঞ্জন দে, বৈকুন্ঠ নাথ চৌধুরী, ব্রজেন্দ্র লাল দে, হরি রঞ্জন ভট্টাচার্য্য, হরি চরন দে, রাধিকা ঘোষ, সচ্চিদা রঞ্জন চৌধুরী, অমূল্য রঞ্জন চৌধুরী, শচীন্দ্র দে, শিবু শংকর দাশ, অটল বিহারী পাল, রমা রানী পাল, হরিপদ তালুকদার, উত্তর সাধনপুরের বাসু দেব দে, সাতকানিয়া উপজেলার দিয়ারকুল সুখেন্দ্র কারীগর, চন্দনাইশ হারালার মুকুন্দ সিকদার।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান এ কে এম সালাউদ্দিন কামাল বলেন, পাকিস্তানী সৈন্যদের হাতে নিহতদের স্থায়ীভাবে বধ্য ভূমি নির্মাণ প্রয়োজন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, বাঁশখালীতে ২টি বধ্যভূমি চিহিৃত করা হয়েছে। বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন বধ্যভূমি নির্মাণের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গণপুর্ত মন্ত্রাণালয়ের অধীনে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। বাণীগ্রামের বধ্যভূমির অংশ পুকুরে হওয়াতে পরবর্তীতে নির্মাণ করা হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 204 People

সম্পর্কিত পোস্ট