চট্টগ্রাম রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

৫ মার্চ, ২০২১ | ২:০০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে আরও প্রণোদনার দাবি ব্যবসায়ীদের

দেশের পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে আরও একটি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার এন্ড এক্সর্পোটারস এসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে করোনা প্রেক্ষাপটে পোশাক শিল্পখাতের বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তার লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ দাবি জানানো হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের আগ পর্যন্ত তৈরির পোশাক শিল্পখাতের চলমান অচলাবস্থার উন্নয়ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তার উপর এ সময়ের মধ্যেই পবিত্র রমজান ও ঈদ-উল আযহা-দুটি ঈদ রয়েছে; যেখানে উক্ত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদেরকে বেতন এর পাশাপাশি বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০২০ সালে করোনা শুরুর সাথে সাথেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব বিবেচনায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণ প্রদানের কারণে শিল্পউদ্যোক্তাগণ সেই সময়ে কারখানা চালু রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল এবং শ্রমিকদেরও বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিএখনও ফিরে আসেনি। অথচ এর মধ্যেই ঐ লোনের কিস্তি পরিশোধের জন্য ব্যাংকের চাপের মুখে পড়েছে উদ্যোক্তাগণ।

এসময় বক্তারা আরও বলেন, বিগত কয়েকমাস ধরে করোনার বৈশিক প্রেক্ষাপটে ক্রেতারা (বায়ারগণ) তাদের রপ্তানি আদেশকৃত পণ্য নিতে পারছেন না। ফলে আমাদের দেশের তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতকৃত তৈরি পোশাক স্টক হয়ে গেছে। অন্যদিকে সুতার লাগামহীন এবং অনির্ধারিত মূল্যবৃদ্ধি, জাহাজের পণ্য পরিবহন ব্যয় প্রায় ২০০-৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি, প্রণোদনার বিপরীতে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যাংকের চাপ এবং অন্যদিকে কাস্টমস্, ভ্যাট, ট্যাক্স ও বন্ড কমিশনারেট সংক্রান্ত নানাবিধ অযৌক্তিক চাপের কারণে তৈরি পোশাক শিল্প ধারাবাহিকভাবে ২০২০ সাল থেকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে চলছে। ফলে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতি সহায়তা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য এবং এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন। বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এবং বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মশিউল আজম সজল, সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, বিটিএম’র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিকেএমইএ’র তৃতীয় সহ-সভাপতি গাওহার সিরাজ জামিল, সহ-সভাপতি (অর্থ) মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক ও ফজলুল হক, সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি এ.এইচ আসলাম সানি ও মনসুর আহমেদ, পরিচালক আবু আহমেদ সিদ্দিক, ফজলে শামীম এহসান, মোস্তফা জামাল পাশা, আশিকুর রহমান, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, মোস্তফা মনোয়ার ভুঁইয়া, মো. তারেক আফজাল, মো. মুজিবর রহমান, মো. শাহাদৎ হোসেন ভুঁইয়া (সাজনু), এম. আই. সিদ্দিক (সেলিম মাহবুব), নাসিমুল তারেক মঈন, রতন কুমার সাহা, নন্দ দুলাল সাহা, মো. কবির হোসেন, আহমেদ নুর ফয়সাল, ইমরান কাদের তুর্য, মো. আখতার হোসেন অপূর্ব এবং বিকেএমইএ, বিজিএমইএ ও বিটিএমএ’র সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিল্প উদ্যোক্তাগণ।

পূর্বকোণ/মামুন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 300 People

সম্পর্কিত পোস্ট