চট্টগ্রাম রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

৪ মার্চ, ২০২১ | ২:২৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি

ফটিকছড়ি: ৮ বধ্যভূমির তিনটি এখনো অরক্ষিত

৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ফটিকছড়িতে শতাধিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে পাক বাহিনী। তারা এসব নিরীহ মানুষকে হত্যা করে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে মোট আটটি স্থানে গণকবর দেয়।  সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ফটিকছড়ির মোট ৮টি বধ্যভূমির মধ্যে ৫টিতে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কর্তৃক তাদের নাম ফলকযুক্ত স্মৃতিমিনার নির্মাণ করা হয়েছে। বাকী আরো তিনটি বধ্যভূমি এখনো সেভাবেই পড়ে আছে। এগুলো হলো লেলাং ইউপির কর্ণফুলী চা বাগান এলাকা, উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারা চা বাগান ও মাইজভান্ডার দরবার শরীফের পশ্চিম পাশে তেলপারই খালের পাড়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে ৭১ সালের ২৯ এপ্রিল উত্তর ফটিকছড়ির হাসনাবাদ গ্রামে পাক বাহিনী শহীদ আমিনুল হক চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেখানে আমিনুল হক চৌধুরীসহ মোট ২৩ জন মানুষকে হত্যা করে। সেই সাথে গান পাউডার দিয়ে বাড়িটিও জ্বালিয়ে দেয়। এখানে আমিনুল হক চৌধুরী, আব্দুর রশিদ, আবুল কাসেমসহ মোট ২৩ জন মানুষকে হত্যা করে গণকবর দেওয়া হয়। সেখানে বর্তমানে জেলা পরিষদ একটি স্মৃতিমিনার নির্মাণ করেছে। একাত্তরের নভেম্বর মাসে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের দিন পাক বাহিনী এদেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় লেলাং ইউপির গোপালঘাটা ও শাহনগর এ দুই গ্রামে অভিযান চালিয়ে মো. ইউনুচ, ফয়েজ আহমদ, জহুরুল ইসলাম, কৃষ্ণহরি নাথ, জমির উদ্দিনসহ মোট ২৯ জন মানুষকে হত্যা করে মনাইছড়ি খালের পাড়ে একই গর্তে গণকবর দেয়। সেখানে বর্তমানে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি স্মৃতিমিনার নির্মাণ করা হয়েছে।

লেলাং গণহত্যা শেষ করে পাক বাহিনী ও তাদের দোসররা ঈদের পরদিন কাঞ্চননগর ইউপির গোমস্তা পুকুর পাড় এলাকায় বেশকিছু মানুষকে ধরে এনে হেমায়েতুল হক, ফকির মোহাম্মদ, কবির আহমদ, জাগির হোসেন, ভোলা প্রমুখসহ মোট ২৩ জন মানুষকে হত্যা করে।

৭১ সালের অক্টোবর মাসে পাক বাহিনী লেলাং ইউপির কর্ণফুলী চা বাগান এলাকায় হানা দিয়ে সেখানে বাগানের শ্রমিক, কর্মচারী এনাম হোসেন, আহমদ ছাপা, বজেন্দ্র শীল, তেজেন্দ্র শীল ও সাধারণ মানুষসহ মোট ২১ জনকে হত্যা করে গণকবর দেয়। এ স্থানে এখনো কোন স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়নি। এটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

একাত্তরের জুন মাসে পাকবাহিনী উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নে হানা দিয়ে নানুুপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ, জসীম উদ্দিন, ইছহাক, মির্জা আবু স্টেটের ম্যানেজার দত্তবাবু, ছালামসহ মোট ৬ জনকে হত্যা করে বিনাজুরী খালের পাড়ে গণকবর দেয়। সে স্থানে গত বছর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করেছে।

৭১ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে পাক বাহিনী কাঞ্চননগর ইউপি থেকে বেশ কয়েকজন মানুষকে ধরে পূর্ব কাঞ্চননগরের রক্তছড়ি খাল পাড়ে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। সেখানেও একটি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে।

৭১ সালের এপ্রিল মাসের দিকে পাক বাহিনী উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারা চা বাগানে হানা দিয়ে সেখানে দীলিপ কুমার, ফয়জুর রহমান সহ মোট ৪জনকে হত্যা করে গণকবর দেয়। সেখানে আজও কোন স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়নি।

৭১ সালের জুন মাসের দিকে পাক বাহিনী মাইজভা-ার দরবার শরীফের পশ্চিম পাশে তেলপারই খালের পাড়ে ৪ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। সেখানেও আজতক কোন স্মৃতিফলক নির্মিত হয়নি।

ফটিকছড়িতে মোট ৮টি বধ্যভুমির মধ্যে ৫টিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়। এখনো তিনটিতে বাকি রয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি ইউএনও মো. সায়েদুল আরেফিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ তিনটি বধ্যভূমিতেও স্মৃতিফলক নির্মাণের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং খুব সহসাই এসব স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
  • 13
    Shares
The Post Viewed By: 206 People

সম্পর্কিত পোস্ট