চট্টগ্রাম রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১২:৩২ অপরাহ্ণ

তাসনীম হাসান 

এক ভিডিও বদলে দিল সিরাজের জীবন

কৌতূহলবশত করা ২১ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। আর তাতেই বদলে গেল এক রিকশাচালকের পৃথিবী। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যাকে ভাড়ায় চালাতে হতো রিকশা, সেখানে এখন কয়েকদিনের মাথায় তিনি নতুন রিকশার মালিক। সেই ভিডিওর গল্পটা এবার বলা যাক। এই ভিডিওটি মো. শফিউল আজম নামের এক ইউটিউবারের করা। ফুড ব্লগিং করে খ্যাতি পাওয়া এই তরুণের গত ১২ জানুয়ারি ছিল জন্মদিন। সেদিন দুপুরে অন্য ইউটিউবারদের সঙ্গে জন্মদিনের উৎসব ভাগাভাগি করতে ষোলশহর দু’নম্বর গেটের একটি রেস্তোরাঁয় যাচ্ছিলেন তিনি। গন্তব্যে পৌঁছাতে মুরাদপুর থেকে তিনি উঠেন একটি রিকশায়। সেই রিকশাচালক ছিলেন বয়সের ভারে ন্যুজ।

স্বাভাবিকভাবে তাই বৃদ্ধের প্রতি কৌতূহল তৈরি হয় এই তরুণের। নানা বিষয় জানতে জানতে তাঁকেও নিয়ে যান রেস্তোরাঁয়। খাবার খেতে খেতে বৃদ্ধ মোহাম্মদ সিরাজ শোনান নিজের জীবনের গল্প। সেই দুঃখের গল্প বলতে বলতে কখনো চোখ ভিজে উঠছিল তাঁর। আবার কখনো এত কষ্টের পরেও সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পেরে গর্বে হাসছিলেন তিনি। তবে খাবার মুখে নিতে গিয়ে তিনি আটকে যাচ্ছিলেন বারবার। বলছিলেন, ‘ভালোমন্দ খাবার তো ঢুকবে না বাবা। আমার যে দুটো বাচ্চা আছে। তাঁদের ছাড়া ভালো কিছু খেতে ইচ্ছে করে না রে।’ তাই ওই তরুণ বৃদ্ধকে পরে কয়েকদিনের জন্য বাজার করে দেন।

সেসব পেয়ে উচ্ছ্বাসিত বৃদ্ধ ফিরে যান নিজের ঠিকানায়। কয়েকদিন পর নিজের ‘অপু দ্য স্পাইডার’ নামের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেন মো. শফিউল আজম। সেই আবেগঘন গল্পে ভরা ভিডিওটি ভাইরাল হতে সময় নিল না। ইতিমধ্যেই ৭ লাখ ৭৯ হাজার মানুষ দেখে ফেলেছে সেটি। শেয়ার করেছেন ৫ হাজার ৩০০ মানুষ। এরপর দেশ তো বটেই, বিদেশ থেকেও অনেকে সেই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। কিন্তু মো. শফিউল আজম যে বৃদ্ধের মুঠোফোন নম্বর নেননি। তাই শুরু হয় বৃদ্ধকে খুঁজে বের করার চেষ্টা। টানা প্রচেষ্টার ফল এলো কয়েকদিনের মাথায়। পাওয়া গেল বৃদ্ধের নম্বর। এরমধ্যেই শুরু হয়ে গেল প্রবাসী এক নারী ও তাঁর স্বামীর পাঠানো টাকায় রিকশা বানানোর কাজ। রিকশা তৈরি হয়ে গেলে ওই তরুণ বৃদ্ধকে তাঁর পরিবারসহ দাওয়াত দেন রেস্তোরাঁয় খাওয়াতে। আর বলে দেন ‘রিকশা ছাড়া আসবেন।’ ১৭ ফেব্রুয়ারি সিরাজ যথারীতি পরিবার নিয়ে আসেন। তখনো বৃদ্ধ জানেন না তাঁর জন্য কি অপেক্ষা করছে? রেস্তোরাঁ থেকে বের হতেই একটি নতুন রিকশা দেখিয়ে যখন শফিউল আজম বৃদ্ধকে বললেন‘এটি আজ থেকে আপনার।’ সিরাজ তো বটেই, তাঁর স্ত্রী-সন্তানেরাও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। মুহূর্তেই সবার চক্ষু টলমল। এই জল অবশ্য কষ্টের নয়, আনন্দের। এরপর সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নতুন রিকশার প্যাডেলে পা রাখতে রাখতে বৃদ্ধ ফিরে গেলেন পরিবার নিয়ে।

কী বলছেন রিকশাচালকের জীবন বদলে দেওয়ার পেছনের নায়ক শফিউল আজম? পূর্বকোণের কাছে মন্তব্য জানাতে গিয়ে এই তরুণের চোখেমুখে বারবার ধরা পড়ছিল উচ্ছ্বাস। বলেন, ‘আমার একটি ভিডিওর জন্য একজন অসহায় মানুষ নতুন রিকশা পাবেন এতটা কল্পনা করিনি। এখন আমি চাই বৃদ্ধের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা। সেটি না হলেও যেন প্রতি মাসে তাঁর বাসার ভাড়াটি দিতে পারি সেই ব্যবস্থা করবো। তবেই আমার স্বপ্ন পূরণ হবে।’

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 4441 People

সম্পর্কিত পোস্ট