চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ মার্চ, ২০২১

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১:১৫ অপরাহ্ণ

আহমেদ ইকবাল হায়দার

একুশের চেতনাকে কাজে লাগানো হোক

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। আমাদের শহীদ দিবস। বাঙালির জন্য বিশেষ দিন তো বটেই। শুধু কী বাঙালি? এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আজ সারাবিশ্বে পালিত হবে। তাই বলা যায়, আজ আমাদের বাংলা ভাষা বিশ্বভ্রমণ করবে। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে ভাব বিনিময় করে ফের ফিরে আসবে আমাদের মুখে মুখে।

কিন্তু এত কিছুর পরেও আফসোস থেকে যায়। আজ এত বছর পরেও মায়ের ভাষা নিয়ে আনন্দ করার মতো ব্যাপার এখনো আসেনি। কারণ, নিজের ভাষা বাদ দিয়ে এখনো অনেকে অপ্রয়োজনেও ইংরেজিতে কথা বলাটাকে স্মার্টনেস ভাবেন। আমি বলছি না অন্যান্য ভাষা শিখতে হবে না। সেটা শেখাও জরুরি। কিন্তু মাতৃভাষাটা সবার আগে। এটাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। তবে উল্টো পিঠে কয়েকটা অর্জন অবশ্য আছে। ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে নানা দেশের মানুষের মধ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলা, এই ভাষার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়া উল্লেখযোগ্য অর্জন।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন এখনও হয়নি। এর জন্য একটা বিষয় অনুভব করা দরকার। সেটি হলো বাংলা ভাষায় কথা বলাটা কখনো ছোট না। বাংলা ভাষার মর্যাটাদা আরও বেশি করে অনুভব করা দরকার। আর এই ভাষা নিয়ে চিন্তা ভাবনা আর গবেষণার প্রসার ঘটানো দরকার। তাহলে আক্ষেপ কিছুটা হলেও কমবে।

একুশে ফেব্রুয়ারি এলে বাংলা ভাষার বানান বিকৃতি ও অন্য ভাষার শাসন রোধে নানা উদ্যোগ দেখি। কিন্তু এতেও যে মানুষের মধ্যে সে বিষয়ে মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, তা নয়। এজন্য সারাবছরব্যাপী নানা সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া দরকার। আর পাশাপাশি মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

আর আমাদের জাতীয় জীবনে যেসব সমস্যা তার সমাধানেও একুশের চেতনাকে কাজে লাগানো যায়। সব মানুষ একজোট হয়ে দেশের জন্য কাজ করলে কোনো সমস্যাই সমস্যা নয়।

এতো এতো আক্ষেপ, হতাশার মাঝেও আশার কথা হলো নানা দেশের বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যখন কথা বলি, তারা বলেন, বাংলা ভাষা টিকে থাকবে। যে ভাষা প্রতিষ্ঠার পেছনে রক্ত ঝরেছে সেই ভাষা আসলে হারাতে পারে না।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 113 People

সম্পর্কিত পোস্ট