চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সর্বশেষ:

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার  

উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত দিচ্ছে বিপিসি

অবশেষে অর্থ বিভাগের চাহিদা মোতাবেক উদ্বৃত্ত সমুদয় অর্থ ফেরত দেয়া শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব তেল বিপণন সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

কোষাগারে থাকা উদ্বৃত্ত ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রথম দফায় ২ হাজার কোটি টাকা অর্থবিভাগকে ফেরত দেয়া হয়েছে। দুই মাসে এই অর্থ ফেরত দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আবু বকর সিদ্দীক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিপিসির কাছে উদ্বৃত্ত টাকা ফেরত চেয়ে চিঠি দেয় অর্থবিভাগ। কিন্তু ওই টাকা না দেয়ার জন্য জ্বালানি বিভাগে দেন-দরবার করার পাশাপাশি চিঠিও দেয় বিপিসি। টাকা দেয়ায় অনীহা দেখানোর ক্ষেত্রে সংস্থাটির যুক্তি হচ্ছে- ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে সেক্ষেত্রে যদি রিজার্ভ না থাকে তাহলে সমস্যায় পড়তে হবে বিপিসিকে। কিন্তু অর্থবিভাগের অব্যাহত তাগাদার কারণে শেষ পর্যন্ত  টাকা দিতেই হল বিপিসিকে।

গত দুই মাসে উদ্বৃত্ত অর্থের দুই হাজার কোটি টাকা অর্থবিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাকি ৩ হাজার কোটি টাকাও ধাপে ধাপে দেয়া হবে বলে পূর্বকোণকে জানিয়েছেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আবু বকর সিদ্দীক।

বিপিসির কাছে ৫ হাজার কোটি টাকা চেয়ে সম্প্রতি চিঠি দেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা একসাথে পুরো টাকা না দিলেও ধাপে ধাপে এ টাকা দেয়ার চেষ্টা করছি। এরইমধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা অর্থ বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছি।’

জানা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোষাগারে থাকা বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে হস্তান্তরের নতুন আইন করা হয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী বিপিসির তহবিলে থাকা অর্থও চেয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। কিন্তু কেন সেই অর্থ দিতে বিপিসির গড়িমসি জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেল গ্যাসের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিপিসির লোকসানের আশঙ্কা বেশি। ভবিষ্যতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থাকাটা জরুরি। এরপরেও জানুয়ারি মাসে এক হাজার ও চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে আরও এক হাজার কোটি টাকাসহ মোট দুই হাজার কোটি টাকা অর্থবিভাগে হস্তান্তর করেছি।’

অন্যদিকে, খনিজ সম্পদ আহরণ ও সরবরাহ সর্ম্পকৃত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার কাছেও তাদের কোষাগারে থাকা উদ্বৃত্ত চার হাজার কোটি টাকা ফেরত চেয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে অর্থ ফেরত দেয়ার সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও অর্থ ফেরত দেয়নি পেট্রোবাংলা। বিষয়টি গত ২৭ জানুয়ারি জ্বালানি বিভাগের সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়। তখন জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিসুর রহমান বলেন, এখন পেট্রোবাংলার পক্ষে এই টাকা ফেরত দেয়া সম্ভব নয়। কারণ পেট্রোবাংলার আয় সামান্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্বালানি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পেট্রোবাংলা ও বিপিসিতে অনেকগুলো উন্নয়নমূলক প্রকল্প চলমান রয়েছে। বিদেশ থেকে গ্যাস ও তেল আমদানি করে দেশের চাহিদা পূরণ করতে হয়। এর আগে আর্থিক সঙ্কটের কারণে বিপিসিকে তেল আমদানির জন্য ঋণ দিতে চাইতো না দেশীয় ব্যাংকগুলো। তখন সরকার কিংবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হাত পাততে হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে বিপিসি সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে লাভের মুখ দেখেছে। এখন প্রতিষ্ঠানটিকে তেল আমাদানি করতে কারও কাছে টাকা চাইতে হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের রিজার্ভ যদি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দিতে হয় তবে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বিপিসি। এতে ঝুলে যেতে পারে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 273 People

সম্পর্কিত পোস্ট