চট্টগ্রাম শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০২৩

সর্বশেষ:

২১ জুন, ২০১৯ | ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অঙ্গীকারনামা দিয়ে বিনা শুল্কে পণ্য খালাসের নির্দেশনা

৫ শতাংশ হারে আগাম কর
ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের অসন্তোষ
ক্ষোভের মুখে বিশেষ ব্যবস্থা

ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের মুখে বিশেষ ব্যবস্থা নিলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ( এনবিআর )। আপাতত ৫ শতাংশ আগাম কর পরিশোধ ছাড়া খালাস করা যাবে আমদানি পণ্য। তবে, ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে আইন অনুযায়ী ঐ কর পরিশোধ করবেন মর্মে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) এ ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর। দ্বিতীয় সচিব মো. তারেক হাসান জানিয়েছেন, সব কাস্টম হাউস এবং সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
গত ১৩ জুন জাতীয় বাজেটে ৫ শতাংশ হারে আগাম করারোপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সাথে সাথে সব কাস্টম হাউস তা কার্যকর করে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভোগ্যপণ্যসহ সব খাতে। বিজিএমইএ’সহ প্রায় সব বাণিজ্যিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। তারা অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এর নেতিবাচক পড়ে। প্রায় সব ভোগ্যপণ্যের দর বেড়ে যায়। আবার কমে স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এসেছে। কিন্তু এই ওঠা-নামায় বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পুঁজিহারা হয়ে গেছেন। অল্প কয়েকজন অবশ্য বেশ ভাল মুনাফা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠন এই আগাম কর স্থগিত করার দাবি জানান। এ অবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গতকাল নির্দেশনাটি দেয়। এতে বলা হয়, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আগের শুল্কেই আমদানিকৃত পণ্য খালাস করা যাবে। তবে, আগামী ১ জুলাই থেকে আমদানিকারকদের ৫ শতাংশ আগাম কর পরিশোধ করেই পণ্য খালাস করতে হবে মর্মে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ‘গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থবিল ২০১৯ উপস্থাপিত হয়। অর্থবিল ২০১৯ এর দফা ৭১ অনুযায়ী আমদানি পণ্য খালাসে আগাম কর আরোপ করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে আগাম কর পরিশোধের পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় আমদানি পণ্য ছাড়করণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাই, ক্রান্তিকালীন সময়ে অর্থাৎ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য আমদানিকারকরা ৫ শতাংশ আগাম কর আইন অনুয়ায়ী পরিশোধ করবেন মর্মে অঙ্গীকারনামা দিয়ে আগাম কর ছাড়া শুল্কায়ন ও খালাস করা যাবে।
নতুন ভ্যাট আইনে পণ্য আমদানির সময় ৫ শতাংশ হারে আগাম কর পরিশোধ করতে হবে আমদানিকারকদের। পরে আগাম কর পরিশোধকারী ব্যক্তি নির্ধারিত কর মেয়াদে পরিশোধ করা আগাম করের সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয় করবেন। যাদের ভ্যাট নিবন্ধন থাকবে না, এমন আমদানিকারকদের আগাম কর বাবদ পরিশোধ করা অর্থ ফেরত পেতে কমিশনারের কাছে আবেদন করতে হবে। এসব বিধান রেখে ভ্যাট আইনের ৩১ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করে অর্থবিলে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি আমদানি করা পণ্য সরবরাহের ওপর ৫ শতাংশ হারে আগাম ভ্যাট পরিশোধ করবেন। আগাম কর পরিশোধকারী ব্যক্তি নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদের ভ্যাট দাখিলপত্রে পরিশোধিত আগাম করের সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয় করতে পারবেন। অনিবন্ধিত আমদানিকারক আগাম কর দিলে তিনি তা ফেরত পাওয়ার জন্য কমিশনারের কাছে আবেদন করবেন। নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনার তা নিষ্পত্তি করবেন।
ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা বলেছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পদক্ষেপ তো নেই, উল্টো শিল্প উদ্যোক্তাদের ঘাড়ে আগাম এই করের বোঝা চাপানো হয়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর ৫ শতাংশ আগাম কর পরিশোধের বিধান চালু করায় শিল্প স্থাপন ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই বহুলাংশে বাড়বে। যা সরকারের ব্যবসা সহজ করার (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) নীতির পরিপন্থী। শুধু তাই নয়। ডাল, গম, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, সার-বীজ আমদানিতেও আগাম কর আরোপ করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এতে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এনবিআর বলছে, আমদানির সময় পরিশোধিত আগাম কর পরবর্তী মাসের ভ্যাট রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করার বিধান রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট