চট্টগ্রাম রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সর্বশেষ:

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১২:২৮ অপরাহ্ণ

নওশের আলী খান 

সিইউএফএল: সার নিয়ে কারসাজির অভিযোগ

বোরো চাষের ভরা মৌসুমে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড থেকে ডিলারদের সার সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নতুন এফডিআর জমা দেয়ার অজুহাত দিয়ে ৮টি জেলার ১৫০ জন ডিলারকে গত ৬ দিন ধরে সার সরবরাহ দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ডিলারগণ। চিটাগং ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ডিলারদের সার সরবরাহ না দেয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে বলে জানিয়েছে। তবে কয়েকজন ডিলার জানিয়েছেন ভরা মৌসুমে ইউরিয়া সরবরাহ না দেয়ার ঘটনাটি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র। কারাখানার দুর্নীতিবাজ কয়েকজন কর্মকর্তা এ ধরনের জঘন্য কাজে লিপ্ত  রয়েছেন। তবে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, ডিলারদের সার সরবরাহ বন্ধ করা হবে না। যা করতে হয় তা করব।

উল্লেখ্য, চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার থেকে দৈনিক ১২ ঘণ্টায় এক হাজার টন সার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম কক্সবাজার রাঙামাটি খাগড়াছড়ি বান্দরবান ফেনী নোয়াখালী ও লক্ষীপুর এই ৮টি জেলায় ফেব্রুয়ারি মাসে সারের চাহিদা আনুমানিক ২০ হাজার টন। এই ৮টি জেলায় ডিলার রয়েছেন ১৫০ জন।

সার উত্তোলন করতে না পেরে মেসার্স আলম এন্ড সন্স, মেসার্স জনপ্রিয় স্টোর ও স্কাই ডিজিটাল বিষয়টি চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। এই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে বিসিআইসির চেয়ারম্যান ও মহাব্যবস্থাপক, জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম এবং উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরকে।  চিঠিতে বলা হয়, দেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর বিসিআইসি ডিলারদের নিকট ফেব্রুয়ারি/২০২১ইং মাসের ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপত্র অনুযায়ী পে-ইন-স্লিপ করে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লি. কে জমা দিতে গেলে ইউরিয়া কারখানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা আগে জমা দেয়া ১ লক্ষ টাকার এফডিআর পরিবর্তন করে নতুন করে ১ লক্ষ টাকার পে-অর্ডার জমা দিলে ফেব্রুয়ারি/২০২১ মাসের বরাদ্দকৃত সার ডেলিভারি দেওয়া হবে, আর নতুন পে-অর্ডার জমা না দিলে এই সার ডেলিভারি দেওয়া হবে না বলে জানান। আগের জমা দেওয়া এফডিআর পরিবর্তন করে নতুন করে পে-অর্ডার জমা দেওয়ার জন্য বিসিআইসি থেকে কোন নির্দেশনা ডিলারদের নিকট দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ইউরিয়া সার মজুদ না থাকায় এবং ইউরিয়া সারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেব্রুয়ারি/২০২১ ইং মাসের বরাদ্দ পাওয়া ইউরিয়া সার কারখানা থেকে উত্তোলন করা খুবই জরুরি, যদি ডিলাররা এই মাসের বরাদ্দ পাওয়া ইউরিয়া সার উত্তোলন করতে না পারে তাহলে চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে ইউরিয়া সারের সংকট সৃষ্টি হবে। এছাড়া কৃষি কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায় যদি সারের সংকট সৃষ্টি হয় তাহলে সমস্ত দায়ভার চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লি. রাঙ্গাদিয়া চট্টগ্রামকে বহন করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সার সরবরাহ বন্ধ নেই। পে-অর্ডারের কারণে সার সরবরাহ বন্ধ হবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 188 People

সম্পর্কিত পোস্ট