চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০২ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘গুজবে কেউ কান দেবেন না’

সবাইকে টিকা নেয়ার আহবান পূর্বকোণ সম্পাদকের

খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিনামূল্যে করোনার ভ্যাকসিন বাংলাদেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য করে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দৈনিক পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী। একইসঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেয়ার পর তিনি এই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পূর্বকোণ সম্পাদক রমিজউদ্দিন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন গত ২১ ডিসেম্বর। এরপর ১১ জানুয়ারি তিনি দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেন। তাই ২১ ডিসেম্বর হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে প্রায় দেড় মাসের মধ্যেই ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশে সহজলভ্য হয়ে গেছে। এটি ছোটখাটো কোনো ঘটনা নয়। অনেক বড় অর্জন। চট্টগ্রামে টিকাদান কর্মসূচির শুরুর দিনে ব্যবস্থাপনা খুবই প্রশংসনীয় ছিল বলে উল্লেখ করেন পূর্বকোণ সম্পাদক। তিনি বলেন, এই কার্যক্রম কীভাবে আরও সুশৃঙ্খলভাবে চালানো যায়, তা ভাবতে হবে। এটি নিশ্চিত করা গেলে মানুষ আরও সহজভাবে টিকা নিতে পারবেন।

সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে রমিজউদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশের জনসংখ্যার আধিক্যের কথা মাথায় রেখে দৈনিক টিকাদানের হার আরও বাড়াতে হবে। এই হার যত বাড়বে ততই দ্রুত জনগণকে এর আওতায় আনা যাবে। আর যত তাড়াতাড়ি এই কর্মসূচি শেষ করা যাবে ততো দ্রুতই করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে। পুনরায় আক্রান্তের সুযোগও থাকবে না তখন আর।

ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউটে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতায় খ্যাতি থাকায় এই টিকা নিয়ে পুরোপুরি আস্থা রাখা যায় বলে জানান পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে পূর্বকোণ সম্পাদক বলেন, এসব মতামতে কেউ কান দেবেন না। কারণ বড় বড় বিজ্ঞানীরা এই ভ্যাকসিনটিতে আস্থা দেখিয়েছেন। টিকাটি নানা প্রক্রিয়া আর জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরেই মানুষের কাছে এসেছে। তাই এই ভ্যাকসিন খুবই নিরাপদ।

নিজের ডায়াবেটিস, অ্যাজমাটিক ও এলার্জিক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে পূর্বকোণ সম্পাদক বলেন, শারীরিক কিছু অসুস্থতা থাকার পরও আমি ভ্যাকসিন নিয়েছি। আপনারাও নিন। কারণ, করোনার টিকা ছাড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচা খুবই দুরূহ।

টিকা গ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ডা. রমিজউদ্দিন চৌধুরী বলেন, টিকা নেয়ার পর নিয়মানুযায়ী পর্যবেক্ষণের জন্য টিকাদানকেন্দ্রে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করি। আল্লাহর রহমতে আমার কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আমার সঙ্গে আরও অনেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। তাঁদের কারও কোনো অসুবিধা হয়েছে এমন কথা শুনিনি।

করোনার টিকা নেওয়ার পরও মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, টিকা দেয়ার পরও আমাদের সকলের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সরকারি ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত মাস্ক পরে থাকতে হবে। পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

ইপিআই কর্মসূচির মতো কোভিড ভ্যাকসিন প্রদানও সরকারের একক কর্তৃত্বে রাখার আহবান জানিয়ে পূর্বকোণ সম্পাদক বলেন, সঠিক ও নিরাপদভাবে করোনার টিকাদান নিশ্চিত করতে হলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ দরকার। কোনভাবেই প্রাইভেট সেক্টরে করোনার টিকাদান ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 274 People

সম্পর্কিত পোস্ট