চট্টগ্রাম শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

ভেড়া মার্কেট বস্তি: দেড় মাসেও হল না উচ্ছেদ

ভেড়া মার্কেট বস্তির ৪৭ দখলদারকে উচ্ছেদে এক মাসের নোটিশ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সময়সীমার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এসি ল্যান্ডের প্রতিবেদন না পাওয়ায় উচ্ছেদ কার্যক্রমে দেরি হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া পূর্বকোণকে বলেন, ‘যখন উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়েছে, তখন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

গত ২০ ডিসেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন ভেড়া মার্কেট বস্তির ৪৭ অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ নোটিশ দেন। ২৩ ডিসেম্বর সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন চন্দ্র রায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেন। অবৈধ দখলদারদের মধ্যে বহুল আলোচিত জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও পুলিশ বক্সের (কাঁচা ঘর) নামও রয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সদর সার্কেলের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। নোটিশ পাওয়া ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি জায়গা খালি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় খাস জমিতে অবস্থিত ইমারত উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে দখলদারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ভেড়া মার্কেট বস্তিতে ৩০ একর খাস জমি দখল করা হয়েছে। টিনশেড, সেমিপাকা ঘর ও শুঁটকির মাচাং রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ ও ১৮ সালে বাস্তুহারা বস্তির উচ্ছেদের জন্য একাধিকবার উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। উচ্ছেদ করার জন্য লাল পতাকা দিয়ে খাস জমি চিহ্নিতও করা হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ দিয়েই দায় সেরেছিলেন জেলা প্রশাসক। উচ্ছেদ কার্যক্রম আর পরিচালিত হয়নি। এতে বাস্তুহারা বস্তির আরও কয়েকগুন বেদখল হয়েছে সরকারের।

জেলা প্রশাসক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সামিউল মাসুদ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বলা হয়েছে, কর্ণফুলীর তীরে মোট ১৫৮ দশমিক ৪৫৫৫ একর ভূমিতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ১৫৮ একর ভূমির মূল্য দুই হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। ওই প্রতিবেদনের পর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার দখলদার আরও বেড়েছে। ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে বেড়া মার্কেট বস্তিতে আগুন লেগে নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হন। অগ্নিকাণ্ডের পর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সরকারি খাস জমি দখল করে বেড়া মার্কেট বস্তি গড়ে ওঠেছে। এ অবৈধ বস্তিতে পাঁচ হাজার ছিন্নমূল মানুষ বসবাস ছিল। ৪৭ জন ব্যক্তি সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। অবৈধ দখলদারের হাত থেকে মূল্যবান জমি উদ্ধার করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার সুপারিশ করেছিল তদন্ত কমিটি। কর্ণফুলী নদীর রাজাখালী খালের তীর দখল করে ভেড়া মার্কেট এলাকায় বিশাল বস্তি গড়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, ভেড়া মার্কেট বস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে মদ-জুয়ার আসর থেকে শুরু করে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে। এই সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক ছিলেন আকতার হোসেন প্রকাশ কসাই আকতার। এই সাম্রাজ্য থেকে আকতার প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার অবৈধ আয় ছিল। আকতার ছিলেন ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত হন আবু তৈয়ব নামে এক মাঝি। চাঁদা না দেয়ায় আকতাদের নির্দেশে বেধড়ক পিটুনী ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে তাকে খুন করা হয়েছিল বলে দাবি তার স্বজনদের। এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই গ্রেপ্তার হন কসাই আকতার ও তার সহযোগীরা। আকতার কারাগারে থাকায় সেই অপরাধ সাম্রাজ্য দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেছে তার কয়েকজন শিষ্য ও প্রতিপক্ষ গ্রুপ। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 232 People

সম্পর্কিত পোস্ট