চট্টগ্রাম সোমবার, ০৮ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ৬:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবি তোলার ছবিতেই আন্তর্জাতিক পুরস্কার

বোরকায় ঢাকা পুরো শরীর। শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে হাঁটছিলেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে ধুঁয়ে দিয়ে যাচ্ছিল তাঁদের পা। এমন সময় হঠাৎ সেই নারী স্মার্টফোনটি হাতে নিয়ে তুলতে শুরু করেন নিজস্বী। ছবি তোলার সময় সবার মুখে উপচে পড়ছিল হাসির ঢেউ। পেছনে সমুদ্রে নোঙ্গর করা জাহাজগুলো যেন অভ্যর্থনা জানাচ্ছিল তাঁদের। সাংবাদিকতায় একটা চিরসত্য প্রবাদ চালু আছে-একটি ছবি হাজার শব্দের সমান কথা বলে। চট্টগ্রামের আলোকচিত্রী শাহরিয়ার ফারজানার তোলা এই ছবিটাও যেন তেমন। সেই অনিন্দসুন্দর ছবিটাই এই আলোকচিত্রীকে এনে দিল ‘৮১-তম ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফিক স্যালন অব জাপান (দ্য আশাহি শিমবুন)’ পুরস্কার। শাহরিয়ার ফারজানার এই পুরস্কার নিয়ে গর্বের বড় কারণ আছে। কারণ এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সারা বিশ্বের ৭৭টি দেশের মোট ১১ হাজার ৮৪১টি ছবি অংশ নেয়। আর সেখান থেকে প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়েছে মাত্র ১১১টি ছবি। সেই ছবিগুলোর একটি হলো এটি। মার্চের শেষে ফটো-আশি.কম দেখা যাবে নির্বাচিত ছবিগুলো।

পূর্বকোণের কাছে সেই ছবি তোলার গল্প তুলে ধরেন শাহরিয়ার ফারজানা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়। ঘুরতে গিয়েছিলেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। যথারীতি তার সঙ্গী ছিল ক্যামেরাটি। এমন সময় সৈকতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আনন্দ উৎসবে মেতে থাকতে দেখে তাঁদের পিছু নেন তিনি। মাছরাঙার মতো শিকারি চোখে নজর রাখছিলেন সেই দলটিকে। এমন সময় দেখতে পান নিজস্বী তোলার ওই দৃশ্যটি। আর দেরি করেননি শাহরিয়ার ফারজানা। ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করেই একের পর এক ক্লিক। পরে ‘চেঞ্জ দ্য থট’-শিরোনামে এই ছবিটি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। অবশ্য এটিই শাহরিয়ার ফারজানার জীবনে প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার নয়। গত এক দশকে তাঁর ঝুলিতে ভরেছে ৭৯টি পুরস্কার। যার বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মেয়ে শাহরিয়ার ফারজানার এই সব অর্জনের গল্পের উল্টো পিঠে লুকিয়ে আছে দুঃখের কথাও। গত দশকের  কথা। একের পর এক যন্ত্রণায় বিদ্ধ হতে থাকেন তিনি। সেই কষ্ট থেকে উত্তোরণে সম্বল হিসেবে হাতে তুলে নেন ক্যামেরাকে। বাকিটা ইতিহাস। এই ক্যামেরায় একদিকে যেমন রোজগার হচ্ছে তেমনি তাঁকে দিচ্ছে খ্যাতিও।

শাহরিয়ার ফারজানা বলেন, ২০০০ সালে বোনের স্বামী জন্মদিনে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছিলেন ছোট্ট একটি ক্যামেরা। সেই থেকে ছবি তোলার নেশা শুরু। পরে ২০১৩ সালে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকীর হাতে গড়া ‘ফটো আর্ট ইনস্টিটিউটে’ ভর্তি হই। সেখানে শিখে নিই ক্যামেরার এ টু জেড।

ছবি তোলার পাশাপাশি আরও একটি বড় বাতিক আছে শাহরিয়ার ফারজানার। সেটি হলো লেখালেখি। চট্টগ্রাম থেকে বের হওয়া নারীসচেতনতামূলক জনপ্রিয় পত্রিকা নারীকণ্ঠ-র প্রকাশক ও সম্পাদক তিনি। ‘নারীকণ্ঠ স্বপ্নডানা’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের কাজ। আবার ‘বরণীয় গুণিজন: জীবনকথা ও কর্মকৃতি’ শীর্ষক মাসিক মূল্যায়নধর্মী সভা করে নবীন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার কাজও সমানতালে করে যাচ্ছেন এই নারী।

যতদিন সম্ভব ততদিন ক্যামেরাটিকে হাতে রাখতে চান শাহরিয়ার ফারজানা। তাঁর ভাষায়Ñ‘মানসিকভাবে মরে যাওয়া আমি মানুষটাকে তো নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে এই ক্যামরাটি। তাকে ছাড়ি কেমনে?’

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 658 People

সম্পর্কিত পোস্ট