চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০২ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ২:২৭ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম 

সেবা সংস্থাকে এক ছাতার নিচে আনা

সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে নগরীর সব উন্নয়ন ও সেবাখাত এক ছাতার নিচে আনার প্রতিশ্রুতি দেন এম রেজাউল করিম চৌধুরী। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহারের ২২ নম্বর দফায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু চসিক তথা মেয়রের আইনি সীমাবদ্ধতাকে জয় করে সব সংস্থার সেবাকে এক ছাতার নিচে আনা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সচেতন মহল।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মেয়ররা ‘অর্ডিন্যান্স অব সিটি কর্পোরেশন-১৯৮২ দ্বারা পরিচালিত হতেন।  ওই সময় চট্টগ্রামের সাতটি সেবা সংস্থা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, সিডিএ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত অধিদপ্তর, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান সিটি কর্পোরেশনের ‘অফিসিয়াল কমিশনার’ ছিলেন। তারা মেয়রের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রতি মাসের সমন্বয় সভায় উপস্থিত থাকতে বাধ্য ছিলেন।

পরবর্তীতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহা-ব্যবস্থাপকসহ অন্য সেবা সংস্থার প্রধানের উপস্থিতিও অনেকটা আবশ্যক ছিল। এখন পরিচালিত হয় ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯’ দ্বারা। এই আইনের ধারা ৪৯ এর উপ-ধারা মতে সিটি কর্পোরেশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রধান ও তাদের প্রতিনিধি সাধারণ সভায় যোগ দিতে পারবেন এবং বিভিন্ন মতামত দিতে পারবেন। আবার ব্যত্যয় ঘটলেও তাদেরকে বাধ্য করার সুযোগ নেই। এই সংকট থেকে উত্তরণে ২০১৬ সালের ২৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘সিটি কর্পোরেশনের সাথে সেবা প্রদানকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দপ্তরসমূহের মধ্যে সমন্বয়’ করার জন্য একটি পরিপত্র জারি করা হয়। তাতে সিটি কর্পোরেশনের অধিক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের প্রধানগণ সিটি কর্পোরেশনের আমন্ত্রণে সভায় যোগদান করতঃ সভায় গৃহীত সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপরও সমন্বয় নিশ্চিত না হওয়ায় তৎকালিন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ২০১৭ সালের ৩ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, চসিক নিয়মিত সমন্বয় সভার আয়োজন করেছে। সভায় সকল উন্নয়ন কাজে চসিকের সাথে সমন্বয়ে বারবার সিদ্ধান্ত হলেও কোনো সংস্থা-ই তা কার্যকর করছে না।

২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে জারিকৃত পূর্বের পরিপত্রের নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ ১৫টি মন্ত্রণালয় ও সরকারের বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপরও অনেক সভা হয়। কিন্তু সুফল মিলেনি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চসিকের তৎকালীন প্রশাসকের গঠিত পরামর্শক কমিটি মত দেয় যে, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও চসিকের ক্ষমতা বাড়ানো উচিত। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকার তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, চট্টগ্রামের এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সিটি গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠার অনুরোধ করেছিলেন।

জানতে চাইলে পিডিবি চট্টগ্রামের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও চসিকের সদ্যবিদায়ী প্রশাসকের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য প্রবীর কুমার সেন পূর্বকোণকে বলেন, চট্টগ্রামে সব সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সবাই কাজ করছে। পিডিবি প্রথম পর্যায়ে সব ৩৩ কেভি লাইন আন্ডারগ্রাউন্ড করবে। একইভাবে অন্যান্য সংস্থাও তাদের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করছে। এতে সমন্বয় না হলে নগরবাসীর দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। এই সমন্বয়টা মেয়রকেই করতে হবে। কারণ তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নগরপিতা। তিনি সবাইকে ডাকতে পারেন। অন্য সংস্থার উপর খবরদারি করার আইনি ক্ষমতা না থাকলেও সব সংস্থা প্রধানের উচিত মেয়রের নেতৃত্বে কাজের সমন্বয় করা। দেশের স্বার্থে তাদের এক হতেই হবে। বর্তমানে যারা বিভিন্ন সংস্থার প্রধানের দায়িত্বে আছেন তাদের মানসিকতা অনেক পজিটিভ উল্লেখ করে বলেন, সরকার যদি মেয়রের ক্ষমতা একটু বাড়িয়ে দেয় তাহলে সমন্বয়ের কাজটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 258 People

সম্পর্কিত পোস্ট