চট্টগ্রাম বুধবার, ০৩ মার্চ, ২০২১

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | ৬:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাসুম ও তার ক্যাডারদের গ্রেপ্তারের দাবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে লালখান বাজার ওয়ার্ডে সহিংসতা সৃষ্টিকারী দিদারুল আলম মাসুম ও তার ক্যাডারদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ওই ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল।

আজ সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। একইসঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার ঘটনায়ও তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল হাসনাত বেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনীতিতে সততা, মেধা, কর্মদক্ষতা বিবেচনায় জনসম্পৃক্ত ও জনপ্রতিনিধি তৈরি করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তারই প্রতিফলন ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আমার এই মনোনয়ন প্রাপ্তি। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে ইতিবাচক লালখান বাজার গড়ার প্রত্যয়ে “আগামীতে সবার জন্য নিরাপদ লালখান বাজার” শ্লোগান নিয়ে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। আমি যখন প্রচার শুরু করি তখন দিদারুল আলম মাসুম ও তার ক্যাডাররা আমাকে আমার পরিবারকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকী ও অপপ্রচার চালানোসহ একের পর এক নেতাকর্মীদের মামলা হামলার মাধ্যমে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে আমি পুলিশ কমিশনার ও র‌্যাবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দিই। ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার পর মাসুমের এই আগ্রাসী পদক্ষেপ আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। তার নির্দেশে তার অনুগত বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাত করে হত্যা চেষ্টাসহ নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে আমাকে কর্মীশূন্য করতে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে হামলা করে। এ বিষয়ে খুলশী থানায় বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমার মা ইন্তেকাল করেন। মায়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে আমি দ্বিতীয়বারের মতো করোনায় আক্রান্ত হই। এর মধ্যে আমার একটি শারীরিক অস্ত্রোপাচার হয়। সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর মাসুম ও তার ক্যাডার বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সভা সমাবেশে আমার বিরুদ্ধে আক্রামণাত্মক বক্তব্য দেয়। এ বিষয়ে খুলশী থানা আমার জিডি নেয়নি।

নির্বাচনের দিন মাসুম ও তার ক্যাডার বাহিনী ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শাহ আলম, বিদ্রোহী প্রার্থী মানিক, টাইগারপাসের জোড়া খুনের মামলার আসামি লিমন বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন কেন্দ্রে হামলা চালায়। এই হামলায় আমার ২১ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করলেও প্রশাসন এখন তাদের গ্রেপ্তারের কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া পুলিশ লাইন কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ও তার ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বে দুই শতাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের ছেলে তানভীর ফয়সাল ইভানসহ চারজনকে গুরুতর আহত করে। ওইদিন সে দুই রাউন্ড গুলিও চালায়। মাসুমের নেতৃত্বে এই হামলা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশবিশেষ।

পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1203 People

সম্পর্কিত পোস্ট