চট্টগ্রাম শনিবার, ০৬ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

৩০ জানুয়ারি, ২০২১ | ৬:০২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্গমেও জ্বলবে আলো

রাঙামাটি,  খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান-এই তিন পার্বত্য জেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে দুর্গম অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যে এই কাজ প্রায় শেষ হবে। তাই আশা করা যাচ্ছে ২০২২ সালের শুরুতেই শতভাগ এলাকায় জ্বলবে আলো।

 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল সূত্র জানায়, তিন পার্বত্য জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক আছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০ জন। এর মধ্যে অনেকেই এখন বিদ্যুৎ পান। সবমিলিয়ে বর্তমানে তিন জেলায় বিদ্যুতায়নের হার ৫৫ শতাংশ। এখন নতুন করে ৫৬ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।

 

ইতিমধ্যে সেই প্রকল্পের আওতায় ৩১ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বাকি ২৫ হাজার গ্রাহকের ঘরও আলোকিত হবে বিদ্যুতে। এর সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ে থাকা ৪০ হাজার পরিবারে সৌর বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি চলতি বছরে শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প : ২০১৭ সালে পার্বত্য তিন জেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয় পিডিবি, চট্টগ্রাম। এই প্রকল্পের আওতায় ১২টি ৩৩/১১ কেভি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ ও ৪টির ক্ষমতা বর্ধিতকরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে নতুন ৭টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র ও ৩টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বর্ধিতকরণ শেষে চালু করা হয়েছে। বাকি ৫টি ৩৩/১১ কেভি নতুন ও একটির ক্ষমতা বর্ধিতকরণ কাজ শেষ পর্যায়ে।

 

একই প্রকল্পের আওতায় ৩৬৩ কিলোমিটার (কিমি) ৩৩ কেভি লাইন, ৫৫৪ কিমি ১১ কেভি লাইন, ৩১৮ কিমি ১১/০.৪ কেভি লাইন এবং ৬৬৬ কিমি দশমিক ৪ কেভি লাইন নির্মাণ ও পুনর্বাসন কাজও শেষের দিকে। চলমান রয়েছে ৫৮৪টি ট্রান্সফরমারস্থাপনের কাজ। পার্বত্য তিন জেলার দুর্গম পাহাড়ে গ্রিড লাইনের বিদ্যুৎ নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এসব এলাকায় থাকা ৪০ হাজার পরিবারের কাছে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য আরেকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

গত বছরের ১৪ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ২১৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব বাড়িতে ১০০ ওয়াট ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১৩ হাজার করে এবং বান্দরবানে ১৪ হাজার সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এর পাশাপাশি তিন জেলায় ২ হাজার ৫০০ হোস্টেল, এতিমখানা এবং কমিউনিটি সেন্টারে ৩২০ ওয়াট সোলার সিস্টেম স্থাপন হবে। এর মধ্যে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ৮০০ করে এবং বান্দরবানে ৯০০ সোলার স্থাপন করার কথা রয়েছে।

ইতিমধ্যে পিডিবির নেওয়া প্রকল্পের কাজ ৮০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিডিবি, চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শামসুল আলম। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘আশা করছি চলতি বছরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে। ২০২২ সালের শুরুতে বিদ্যুৎ পাবেন গ্রাহকেরা।’

 

পূর্বকোণ/পি-মামুন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 214 People

সম্পর্কিত পোস্ট