চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ | ১:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে নির্বাচন কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি’

১৯ জানুয়ারি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নাসিমন ভবনে নগর বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে করোনাকালীন সময় থেকে আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। গত ১০ মাস ধরে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। অথচ নির্বাচনের ঠিক দুইদিন আগে মাস্তান, চাঁদাবাজ ও ইয়াবা ব্যবসায়ী দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করার পাঁয়তারা চলছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কিছু অতি উৎসাহী পুলিশের দ্বারা শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে মারামারিতে তিনজন নিহত হয়েছে। আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রচার গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হয়রানি চলছে। কিন্তু এসব বিষয়ে গতকাল সিইসির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আশা করেছিলাম।

ডা. শাহাদাত বলেন, গত ৭ দিন ধরে যে বিষয়টি লক্ষ্য করছি- কিছু গায়েবি ও সাজানো মামলা করা হয়েছে প্রতিটি থানায়। যে মামলাগুলো ২০১৮ সালের নির্বাচনের ঠিক ছয় মাস আগে থেকে দেখেছি। ১৯ জানুয়ারি থেকে প্রতিটি থানায় ১০টির বেশি মামলা করেছে। এক হাজারের অধিক আসামি করা হয়েছে। ৬৯ জনের অধিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে গতকাল রাত পর্যন্ত।

পুলিশের হয়রানি থেকে মহিলা, শিশুরা পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রবিবার রাতে বাকলিয়া থানায় নেত্রী মুন্নি ও তার ১২ বছরের শিশুকে ধরে নিয়ে গেছে। নাগরিক ঐক্য পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিমকে রবিবার রাতে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় চকবাজার থানা পুলিশ। সঙ্গে তার ছেলেকেও ধরে নিয়ে যায়। অথচ তার ছেলে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তাকে আমরা এ পর্যন্ত ৪০টি অভিযোগ দিয়েছি। এসবের কোনো সমাধান হয়নি। গত ৭ দিন ধরে যেসব মিথ্যা মামলা হয়েছে, এই মিথ্যা মামলায় যাতে গ্রেপ্তার করা না হয় সেজন্য কমিশনকে বলেছি। আমাদের দাবি, এসব মামলা প্রত্যাহার করা হোক। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।

তিনি বলেন, যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে যাবো। রাত ১১টায়, এরপর ভোর রাতে আরও ৮-১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে গতকাল ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ তালিকা আমাদের কাছে আছে। এই তালিকা নিয়ে আমরা চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যাবো।

দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, মিত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে আমরা সব কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, এই আশ্বাস নির্বাচন কর্মকর্তারে কাছে চাই। একটা সময় বেঁধে দেবো নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করার জন্য। যদি প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে অবস্থান কর্মসূচি করবো না। অন্যথায় আমরা অবস্থান নেবো।

পূর্বকোণ/পিআর/এএইচ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1974 People

সম্পর্কিত পোস্ট