চট্টগ্রাম রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

সর্বশেষ:

২০ জানুয়ারি, ২০২১ | ২:৩১ অপরাহ্ণ

মরিয়ম জাহান মুন্নী

বিদ্যানন্দের এবারের উদ্যোগ গরীবের সুপার শপ ‘অদল বদল’

‘একজনের আবর্জনা, অন্যজনের সম্পদ’ এই লক্ষে এবার বিদ্যানন্দ শুরু করেছে ব্যতিক্রমী আরেকটি উদ্যোগ। ‘গরীবের সুপার শপ অদল বদল’। বিদ্যানন্দ গরীব অসহায় মানুষদের খাবার বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাদান, পথশিশুদের জন্য এক টাকার আহার, এক টাকার চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল তৈরি করার পর এবার নতুন উদ্যোগে গরীবের সুপার শপ ‘অদল বদল’। যেখানে একজনের অপ্রয়োজনীয় পণ্যটি হয়ে উঠতে পারে অন্যজনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

এমন একটি প্রোজেক্ট নিয়ে নগরীর পাহাড়তলী সাগরিকা রোড বাইন্নাপাড়া বিদ্যানন্দের মা ও শিশু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রায় ২ মাস আগে শুরু হয়েছে। প্রজেক্টটি শুরু হতেই বেশ সাড়া পায় গরীব-অসহায় মানুষের কাছে।

বিবি হালিমা বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। থাকেন সাগরিকা এলাকায়। বেলা ১২টার দিকে ৭ বছরের নাতিসহ একটা সবজির পলিথিন নিয়ে আসেন বিদ্যানন্দের সুপার শপ ‘অদল বদলে’।  হালিমা বেগম বলেন, ‘বাড়ির পাশে ছোট একটা জায়গায় আমি কিছু সবজির চাষ করি। আমার কাছে টাকা নেই। মানুষের মুখে শুনেছি এখানে নাকি পুরনো কিছু দিয়ে অন্য কিছু নিতে পারে। তাই তিন দিন আগে একবার এসে দেখে যাই। আজ নাতিকে নিয়ে আসছি নিজের ফলানো সবজি নিয়ে। সবজিগুলো রেখে নাতির পছন্দ  একটা পুরাতন বইয়ের ব্যাগ নিলাম। ’

এভাবে প্রায় সারাদিনই দুই-একজন করে হাতে কিছু না কিছু নিয়ে আসছে আর নিজের পছন্দের একটা পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন গরীরের সুপার শপ ‘অদল বদল’ থেকে। দুপুরের দিকে শুধু হালিমা নয়, আনুমানিক ৯-১০ বছরের পাপড়ি, তানিয়া ও রিকশাচালক আনোয়ার এসেছে কিছু নেয়ার জন্য। আনোয়ার একটি পুরাতন কাপড়ের ব্যাগ রেখে নিজের জন্য নিলেন একটি শীতের পোশাক। পাপড়ি তানিয়াও এসেছেন শীত পোশাকের জন্য। তবে তারা দুই বান্ধবী খালি হাতে আসলেও ফিরেনি খালি হাতে। দুইজনেই দুইটি সুয়েটার নিতে পারায় বেশ খুশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেশ সাজানো গোছানো একটি রুম। রুমের দেয়ালের সাথে রয়েছে জিনিসপত্র রাখার অনেকগুলো ক্যাবিনেট। সেখানে রয়েছে সবজি থেকে শুরু করে সংসারের প্রয়োজনীয় সবরকম তৈজসপত্র, ঘর সাজানোর পর্দা, বালিশ, শাড়ি, থি-পিস, শার্ট-পেন্ট, নারী-পুরুষের শীত পোশাক, জুতা, সাবান, শেম্পু, শিশুদের খেলনা, টেবিল চেয়ারসহ বইখাতা ও কলম। এসব জিনিসগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই অর্ধপুরাতন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন প্রধান সমন্বয়ক ও নির্বাহী সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, ‘একজনের আবর্জনা, অন্যজনের সম্পদ’ এই নীতি প্রচারে বিদ্যানন্দের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘গরীবের সুপার শপ অদল বদল’। এখানে কেউ তার অপ্রয়োজনীয় একটি বস্তু রেখে প্রয়োজনীয় অন্য কিছু নিতে পারবে। আবার কেউ যদি কোনো কিছু দিতে চান তাহলে দিতেও পারবে। এতে করে কোন বস্তু বা জিনিস দ্বিতীয়বার ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠবে। গরীর অসহায় মানুষগুলো পাবে তাদের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 247 People

সম্পর্কিত পোস্ট