চট্টগ্রাম রবিবার, ০৭ মার্চ, ২০২১

১৯ জানুয়ারি, ২০২১ | ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

ইমরান বিন ছবুর

অধিগ্রহণ করা হবে প্রায় ৬৫ একর ভূমি

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: জলাবদ্ধতা প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ শুরু

অধিগ্রহণ ব্যয় ১৭শ’ কোটি টাকা থেকে বেড়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা

নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। খালের পাশের নিষ্কন্টক জায়গাগুলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) নিজ উদ্যোগে অধিগ্রহণ করেছে। তবে জটিলতা এড়াতে খালের পাশের বেশি জায়গা অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসনের সহায়তা নেয়া হবে। জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক আহমেদ মঈন উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রকল্প পরিচালক জানান, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টি খাল সম্প্রসারণ ও খালের পাড়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ৬৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এরমধ্যে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ৪৯ একর, খাল প্রশস্ত করার জন্য সাড়ে ১৬ একর এবং ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। খালের পাড়ের প্রতিটি রাস্তার প্রশস্ত হবে ১৫ ফুট।

‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে নগরীতে ৩৪ খালে জলাবদ্ধতার কাজ চলছে। এরমধ্যে প্রায় ৩০টি খালে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এসব ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ডিপিপিতে প্রায় এক হাজার ৭শ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। তবে তা বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মত লাগবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

অধিগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মঈন উদ্দিন বলেন, ছোট ছোট অংশগুলো যদিও আমরা (সিডিএ) আগে থেকে অধিগ্রহণ শুরু করেছি। এখন যেহেতু বেশি পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে তাই এসব ভূমি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করার জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠাচ্ছি। গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে প্রথমে আমরা হিজড়া খাল অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর একে একে গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো অধিগ্রহণ করা হবে।
অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মঈন উদ্দিন বলেন, বর্তমানে আমাদের জায়গা বেশি প্রয়োজন হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতি পূরণ বাবদ টাকাও তিনগুণ টাকা দিতে হচ্ছে। ফলে ১৭০০ কোটি টাকা থেকে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫০০ কোটি টাকার মত হবে বলে আমরা ধারণা করছি। স্থাপনার জন্য খালে যাওয়ার জায়গা না থাকাসহ অধিগ্রহণের সময় বেশ কিছু জটিলতায় পড়তে হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।

সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শাম্স বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা হ্রাস করতে হিজড়া খাল এবং চশমা খাল অধিগ্রহণের জন্য আমরা জেলা প্রশাসনকে প্রস্তাব পাঠাচ্ছি। এ দু’টি খাল সম্প্রসারণ করা হলে প্রবর্তক, মুরাদপুর, দুই নম্বরগেট ও বহদ্দারহাট এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা হ্রাস পাবে বলে আশা করছি।

অন্যদিকে, এ পর্যন্ত ৩৫টি খাল থেকে ৩ হাজার ১৩৫ স্থাপনার অবৈধ অংশের একাংশ গুড়িয়ে দিয়েছে সিডিএ। বাকি অংশটুকু অপসারণের জন্য নির্ধারিত সময় বেধে দেয় ভবন মালিকদের। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ স্থাপনা ছিল গয়নাছড়া খালে। সেখানে ৩৯১টি অবৈধ স্থাপনা ছিল। যারমধ্যে ১৮টি বহুতল ভবন ছিল। বিএস এবং আর এস মূলে একটি ৩৬টি খালের মধ্যে পাখিজা নামের একটি খালের অস্তিত্ব পায়নি সিডিএ ও সেনা বাহিনী। এর পরিবর্তে নতুন একটি খাল প্রকল্পে যুক্ত করা হবে বলে জানান সেনা বাহিনীর প্রকল্প পরিচালক।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ সময় ২০২০ সালের জুন মাস। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ বছরের ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করে সিডিএ। এরপর ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং চলতি বছরের ২ জুলাই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 526 People

সম্পর্কিত পোস্ট