চট্টগ্রাম শনিবার, ০৬ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ | ২:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিদেশগামী কর্মীদের সাতদিনেও মেলে না সার্টিফিকেট

তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অভিবাসী শ্রমিকরা। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ সনদ পেতে বিলম্ব হওয়ায় এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

উল্লেখ্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর আওতায় দেশব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) সমূহে বিদেশগামী কর্মীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। জানা যায়, তিন দিনের ট্রেনিং নিতে এসে সার্টিফিকেট পেতে সময় লাগে সপ্তাহের বেশি। এতে দেশের বাইরে যাওয়া এ শ্রমিকদের বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া শহরে আত্মীয়-স্বজন না থাকলে অনেক শ্রমিককে তিন দিনের জন্য শহরে কোন হোটেল বা কটেজে থেকে এ ট্রেনিং শেষ করতে হয়। এক্ষেত্রে যারা নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ তারা আর্থিক সমস্যায় পড়েন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চট্টগ্রামের পলিটেকনিক মোড় এলাকার চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজেলা থেকে এখানেই তিন দিনের ট্রেনিং নিতে আসে বিদেশগামী শ্রমিকরা। প্রশিক্ষণ নিতে শ্রমিকদের জমা দিতে হয় ভিসা, পাসপোর্ট ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। যা প্রশিক্ষণশেষে সার্টিফেকেটসহ ফেরত দেয়া হয়। দেখা যায়, সার্টিফিকেট পেতে দেরি হলে প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকে দুর্ভোগে পড়ে। তেমনি কিছু সমস্যায় পড়েছেন পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের মো. আরমান হোসেন, সীতাকু- উপজেলার ইউছুফ মিয়া ও পটিয়ার জানে আলম নামের এ তিন বিদেশগামী শ্রমিক।

এসময় তারা বলেন, বৈধভাবে দেশের বাইরে যাব। তাই তিন দিনের এ প্রশিক্ষণ নিতে এসেছি। এখানে দেশের বাইরে চলাফেরার জন্য আইন-কানন, নিয়ম-নীতি ও সবরকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শিখিয়েছেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা উপকৃত হয়েছি। অনেক ভুল ধারণাও দূর হয়েছে এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে। তিন দিনের প্রশিক্ষণ কারো ১৩ কারো ১৪ তারিখ ট্রেনিং শেষ হয়েছে। কিন্তু গত  ৩/৪ দিনেও সার্টিফিকেট পাইনি আমরা। এতে আমরা সমস্যায় পড়েছি। কারণ অনেকের ফ্লাইটের তারিখ পড়ে গেছে এ সময়ের মধ্যে।

প্রদীপ কুমার নাথ নামের এক বিদেশগামী শ্রমিক বলেন, আমি বাঁশখালী থেকে এসেছি প্রশিক্ষণ নিতে। আমার পরিবার খুবই দরিদ্র। এখানে আমার কোনো আত্মীয় নেই। গ্রাম থেকে এসে ক্লাস করাও সম্ভব নয়। তাই আমি এখানে একটা অল্পদামি হোটেলে থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে চারদিন। আজ আমি বাড়ি থেকে এসেছি সার্টিফিকেট নিতে। কিন্তু এখনো পাইনি।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, করোনার প্রায় ৩ মাস পরে আবার প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। আমরা প্রশিক্ষণার্থীদের সুবিধার জন্য যেদিন ফর্ম পূরণ করি সেদিনই ঢাকায় সার্টিফিকেট পাঠিয়ে দিই। কিন্তু ঢাকা থেকে সার্টিফিকেট আসতে সময় লাগে। কারণ করোনা পরিস্থতির কারণে বিএমইটি কার্জক্রম অনেকটা শিথিল। এছাড়াও এগুলো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসতে সময় লাগে।

তবে চট্টগ্রাম টিটিসির কর্মকর্তারা অভিযোগ করে বলেন, বিএমইটির আগের পরিচালক থাকা অবস্থায় এমনটা হতো না। তিনি সময়ের মধ্যেই সার্টিফিকেটগুলো পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু বর্তমানে যিনি দায়িত্বে আছেন তিনি সাক্ষর দিলেই সার্টিফিকেট আসে। আমরা শুধু কল করে অনুরোধ করতে পারি। এর বাইরে অন্য কিছু আমরা করতে পারি না। কারণ সনদে বিএমইটির মহাপরিচালক মো. সামছুল আলমের সাক্ষর প্রয়োজন। তাই আমরা চাইলে এটি নিজেরা দিতে পারি না।

চট্টগ্রাম টিটিসির সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর সৈয়দ আবু কাউছার বলেন, প্রবাসী শ্রমিকরাই দেশের সম্পদ। বিদেশগামী কর্মীদের তিন দিনের ট্রেনিং বাধ্যতামূলক। আমরা সবসময় চেষ্টা করি বিদেশি শ্রমিকদের হয়রানি না করতে। কিন্তু আমরা চাইলেও পারছি না। কারণ এটা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকেই আসে। আমাদের দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 189 People

সম্পর্কিত পোস্ট