চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

১৪ জানুয়ারি, ২০২১ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন 

চসিক নির্বাচন: বিদ্রোহীতে ‘রক্তাক্ত’ ভোটের মাঠ

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে উত্তাপ ছিল ভোটের মাঠে। প্রচারণার শুরু থেকেই সংঘাত-সংঘর্ষ ও সহিংসতা লেগে ছিল। শেষতক গত মঙ্গলবার ২৮ নং পাঠানটুলি ওয়ার্ডে দলের দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন এক ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪১ সাধারণ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৪ ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। এরমধ্যে ১৭ ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। এসব ওয়ার্ডকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজনীতিবিদেরা। দুটিতে দুর্বল বিদ্রোহী প্রার্থীতে অনেকটা টেনশনমুক্ত রয়েছেন দলীয় প্রার্থী। ১৫টি ওয়ার্ড অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি দলীয় প্রার্থীদের। একক প্রার্থী রয়েছেন ৬ ওয়ার্ডে। ১৮নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন আ. লীগ প্রার্থী।

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ভয়-ভীতি, হামলা ও পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনেও অভিযোগ করা হয়েছে। ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আ. লীগ সমর্থন পেয়েছেন গাজী মোহাম্মদ শফিউল আজিম। বিদ্রোহী প্রার্র্থী হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরী, আহমদ নূর, কাজল নাথ। দলের চার প্রার্থীকে নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রচারণায় পরস্পরের বিরুদ্ধে ভয়-ভীতি ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে।

২নং জালালবাদ ওয়ার্ডে দল সমর্থন দিয়েছে মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন সাবেক কাউন্সিলর মো. সাহেদ ইকবাল (বাবু)। ইব্রাহীমের দাবি, বিদ্রোহী প্রার্থী তার কর্মী-সমর্থকদের ভয়-ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন।

৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন খানের সঙ্গে রয়েছেন আট বিদ্রোহী প্রার্থী। বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে মো. শফিকুল ইসলাম, মো. ইলিয়াছ আহমদ লেদু, মো. ইকবাল, মো. মোরশেদ হোসেন, মো. আবুল কালামসহ কয়েক সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। অঘটনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

৪নং চান্দগাঁও ওয়ার্ডে আট প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থী রয়েছেন ছয়জন। দলের প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মো. সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু ছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জাহেদ গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, নাছির উদ্দিন, মো. আনিসুর রহমান, মো. এসরারুল হক ও মো. সাইফুল্লাহ খান। আ. লীগ প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপি প্রার্থীকে জেতানো ও শেখ হাসিনার প্রার্থীকে পরাজিত করার মিশনে নেমেছেন।

৫নং মোহরা ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীর টেনশনের আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ কাজী নুরুল আমিন (মামুন)। বিদ্রোহী প্রার্থী আইয়ুব আলী চৌধুরী ও মো. ইব্রাহিম হোসেন প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন।

৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মো. মোবারক আলীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ এয়াকুবকে নিয়ে মাঠে নেমেছে পাঁচলাইশ ও এমইএস কলেজভিত্তিক ছাত্রলীগের একটি অংশ। এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

৮নং শুলকবহর ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মো. মোরশেদ আলমের সঙ্গে মাঠে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগের মোহাম্মদ মহসীন ও মো. আবুল হাসান সুমন।

৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী নুরুল আবছার মিয়া। বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মো. জহুরুল আলম জসিম।

১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর নেছার উদ্দিন আহমেদ। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন যুবলীগের মনোয়ারুল আলম চৌধুরী।

১১নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ ইসমাইল। সক্রিয় বিদ্রোহী প্রার্থী মোর্শেদ আকতার চৌধুরী, যুবলীগের সহ-সভাপতি খন্দকার এনামুল হক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. নুরুল হুদা চৌধুরী।

১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন। মাঠে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মো. সাবের আহম্মেদ ও সাবেক কাউন্সিলর মো. আসলাম হোসেন। দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি উঠোন বৈঠকে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। প্রচারণায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী নগর যুবলীগের মো. ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী। মাঠে আছে দলের মো. মাহমুদুর রহমান ও কাজী অতনু জামান।

১৪নং লালখানবাজার ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলালের প্রতিপক্ষ হচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর আবুল ফজল করিম আহমেদ।

১৬নং চকবাজার ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ গোলাম হায়দার মিন্টুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। প্রচারণা প্রথমদিন নৌকার প্রতীকের শোভাযাত্রায় ছাত্র ও যুবলীগের সংঘর্ষে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ শহিদুল আলম। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন শোয়েব খালেদ।

১৯নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী মো. নুরুল আলম। কাগজপত্রে দলের একাধিক প্রার্থী থাকলেও অনেকটা নীরব রয়েছেন।

২০নং দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল আলম বাপ্পী।

২২নং এনায়েতবাজার ওয়ার্ডে আ. লীগের মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ। মাঠে আছেন সাব্বির চৌধুরী।

২৪নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর নাজমুল হক। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন মো. জাবেদ নজরুল ইসলাম, মো. রকিবুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম।

২৫নং রামপুরা ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী আবদুস সবুর লিটন। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন সাবেক কাউন্সিলর এস এম এরশাদ উল্লাহ।

২৬নং উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রাথী মোহাম্মদ হোসেন। তিন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন দলের মো ইলিয়াছ, মো. নাঈম উদ্দিন, মো. ইমতিয়াজ সবুজ।

২৭নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী মো, শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন দলের সাবেক কাউন্সিলর এইচ এম সোহেল।

২৮নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সহিংসতায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আ. লীগ দলীয় প্রার্থী প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম বাহাদুর। বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মো. আব্দুল কাদের হত্যাকা-ের ঘটনায় কারাগারে রয়েছেন।

২৯নং পশ্চিম মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের। বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, মো. আজিজ উর রশিদ। বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রচারণায় ভয়-ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ দলীয় প্রার্থী জোবায়েরের।

৩০নং পূর্ব পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী আতাউল্লাহ চৌধুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন চৌধুরী জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

৩১নং আলকরণ ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী মো. আব্দুস সালাম মাসুম। শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম গুরুতর অসুস্থ।

৩২নং আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থী কাউন্সিলর আ. লীগ প্রার্থী জহরলাল হাজারীর সঙ্গে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

৩৩নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন সাবেক কাউন্সিলর হাসান মুরাদ।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী পুলক খাস্তগীর। বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ দিদারুল আলম, বিজয় কৃষ্ণ দাশ, অনুপ বিশ্বাস।

৩৬ নং গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে দলের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন আ. লীগ নেতা মো. মোর্শেদ আলী।

৩৭নং উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে দলের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

৩৮নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আ. লীগ প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ হাসান মুরাদ।

৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে আ. লীগ প্রার্থী আব্দুল বারেক। বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন মো. ফরিদুল আলম, সাবেক কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন আহমদ।

৪১নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী। বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলমগীর, মো. মঞ্জুর আলম, নুরুল আবছার, মো. রফিক।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
  • 166
    Shares
The Post Viewed By: 1079 People

সম্পর্কিত পোস্ট