চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১

১৩ জানুয়ারি, ২০২১ | ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সেকান্দর আলম বাবর

জরাজীর্ণ অবস্থায় কালের ভার বহন করছে সেতুটি

এমপির প্রতিশ্রুতির এক বছর, ঘুচল না কালুরঘাট সেতুর দুঃখ

‘বিআইডব্লিউটিএ’র আপত্তিসহ নানা জটিলতায় বাস্তবায়ন হয়নি, ২২ সালের মধ্যে দৃশ্যমান হবে’

চীনের দুঃখ হোয়াংকো নদী আর বোয়ালখালীর দুঃখ কর্ণফুলীর কালুরঘাট সেতু। এ সেতু পার করেছে বৃটিশ, পাকিস্তান সময়কাল। মুক্তিযুদ্ধের অনেক করুণ ইতিহাস নিয়ে এখনও ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। সময়ের পরিক্রমায় সবকিছু বদলেছে, উন্নয়ন হয়েছে-তবে জরাজীর্ণতা নিয়ে এখনও কালের ভার বহন করছে কালুরঘাট সেতুটি।

১৯৩০ সালে রেল চলাচলের জন্য নির্মিত সেতুটি, ১৯৪০ সালে বার্মা ফ্রন্টের যুদ্ধে মোটরযান চলাচলের জন্য এর ওপর ডেক বসানো হয়, দেশ বিভাগের পর ফের তুলে ফেলা হয়। ১৯৫৮ সালে সবরকম যানবাহন চলাচল যোগ্য করে ব্রিজটি তৈরি করে, ১৯৬২ সালে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। সেই থেকে আজ অবধি একমুখী সেতুটি রেল-সড়কের ভার বহন করতে করতে ন্যুব্জ। এমনই বাস্তবতায় বোয়ালখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটিই দাবি ছিল, কালুরঘাট সেতু।

বিজ্ঞাপন

১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার আর পার্বত্য চট্টগ্রামে যাতায়াতের একমাত্র পথ। ১৯৯০ সালে কর্ণফুলীতে ৩য় সেতু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার আর পার্বত্য চট্টগ্রাম হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও বরাবরই দুঃখ থেকে যায় বোয়ালখালীবাসীর। অতঃপর সর্বমানুষের জনদাবির এ বিষয়টি সামনে রেখে রাজনীতি হয়েছে দীর্ঘ ৩০ বছর।

তথ্যমতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯০, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ জাতীয় নির্বাচনের পূর্ববর্তী বোয়ালখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন সভায় নির্বাচিত হলে কালুরঘাট সেতু নির্মাণের সুনিদিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা ৪ বার, খালেদা জিয়া ২ বার দেশ শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও এ সেতুর কোনো পরিবর্তন হয়নি। হয়েছে রাজনীতি।

বিএনপির সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম. মোরশেদ খান কালুরঘাট সেতু নির্মাণে তেমন কোনো ভূমিকাই রাখেননি বলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাংসদ মঈন উদ্দিন খান বাদল একাধিকবার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এবং সংসদে কালুরঘাট সেতু নির্মাণে তাঁর দাবি তুলে ধরেন।

২০১৮ সালের ২৫ জুন জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট সেতুর কোনও সুরাহা না হলে আমি এ সংসদ থেকে পদত্যাগ করব’। তবে তার আগেই ৭ নভেম্বর তিনি চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। এরপর উপ-নির্বাচনে প্রায় প্রতিটি সভা সমাবেশে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেন সরকার দলীয় প্রার্থী দক্ষিণ জেলা আ.লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। তাঁর ঘোষণা ছিল, ‘নির্বাচিত হলে এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে কালুরঘাট সেতু’।

তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, আজ ১৩ জানুয়ারি পার হবে একবছর, তবে দৃশ্যমান কোনো কিছুই হয়নি কালুরঘাট সেতুর! তবে তিনি গত ৭ অক্টোবর রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনকে নিয়ে আসেন কালুরঘাট সেতু পরিদর্শনে। ওইসময় মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০২২ সালের মধ্যে এ ব্রিজটির নির্মাণ কাজ যাতে সম্পন্ন করতে পারি তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। ফের ঝুলে যায় কালুরঘাট সেতুর ভাগ্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি পূর্বকোণকে বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে এক বছর পূর্তিতে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া এবং আমার এলাকার জনসাধারণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। নির্বাচিত হলে এক বছরের মধ্যে কালুরঘাট সেতু দৃশ্যমান করার কথা থাকলেও বিআইডব্লিউটিএ’র আপত্তিসহ নানা জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কালুরঘাট সেতু’র অনুমোদন দিয়েছেন। এখন বাস্তবায়নের পালা। ২২ সালের মধ্যে দৃশ্যমান হবে, ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, এ একবছরে শেখ কামাল আইটি পার্ক, মেরিন একাডেমি, নদী ভাঙনরোধে ব্লক, গ্রাম-শহরের প্রধান প্রধান সড়ক সংস্কার, বোয়ালখালীতে বিআরটিএ’র বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ আমার উল্লেখযোগ্য অর্জন। আমি জনগণের দোয়া ও ভালবাসা নিয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার আমূল পরিবর্তন করব, ইনশাল্লাহ।

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 991 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট