চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

১২ জানুয়ারি, ২০২১ | ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ধ হল টেন্ডার ছাড়াই চলা সেই ন্যায্যমূল্যের দোকান

চমেক হাসপাতাল: নড়ে উঠল দুদকের ‘ধাক্কায়’

অনিয়ম ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়: ডিডি

দীর্ঘ ১৫ বছর আগে রোগীদের কম মূল্যে ওষুধ পেতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ভেতরে একটি অংশে ফার্মেসির জন্য দোকান বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। একই প্রতিষ্ঠান ন্যায্যমূল্যের দোকানটি পরিচালনা করে এলেও সর্বশেষ বরাদ্দ পায় ২০১৪ সালে। নিয়ম অনুযায়ী বছর বছর টেন্ডার হওয়ার কথা থাকলেও, বিনা টেন্ডারেই চলছে দোকানটি।

যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি ‘অনিয়মের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং অডিট আপত্তির কারণে নিয়ম মেনে বন্ধ করা হয় ন্যায্যমূল্যের এ দোকানটি। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি সময়ে ন্যায্যমূল্যের এ দোকানসহ হাসপাতালের বেশকিছু বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান ও চিঠি দেয়ার পরই বন্ধের বিষয়ে তৎপর হন কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ ছিল, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজসে বিনা টেন্ডারের মাধ্যমে দোকানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বিষয়টি সম্প্রতি নজরে আসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। এসব বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিক চিঠিও দেয় দুদক। এরই মধ্যে সর্বশেষ গতকাল সোমবার দোকানটি বন্ধ করে দেয় চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে সদ্য বিদায়ী বছরের ২৬ ডিসেম্বর ১৫ দিনের সময় দিয়ে দোকানটি বন্ধ করে দিতে মালিককে চিঠি দেয় হাসপাতাল প্রশাসন। এর দু’দিন পর অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর হাসপাতালের গঠিত নিরীক্ষণ কমিটি দোকানটি সরেজমিন পরিদর্শন করে। কমিটি সেখানে অনিয়ম খুঁজে পাওয়ায় দোকানটি বন্ধের সুপারিশ করে। যদিও এতসব বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো আলোচনা না করেই গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে মামলা করেন দোকানের মালিক।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দোকানদারের সাথে চুক্তির যে শর্ত ছিল, তার বেশিরভাগই মানা হচ্ছে না। তাছাড়া ২০১৫ সালে এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি সরকারি অধ্যাদেশ জারি হয়। যেখানে উল্লেখ ছিল, উল্লেখিত নিয়মকানুন না মানলে দোকানটি বন্ধ করে দেয়া হবে। এ নিয়ে হাসপাতালের সর্বশেষ অডিটে আপত্তি উত্থাপিত হয়। এমতাবস্তায় দোকানটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে উপনীত হন কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দোকানদারকে সময় বেঁধে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন জবাব না পাওয়ায় দোকানটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ডিডি) ডা. আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে দোকানের বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। একই সাথে হাসপাতালের অডিটে দোকানটি নিয়ে আপত্তি ওঠে। এ দুই বিষয় দোকান মালিককে জানানো হয়। তাদের ১৫ দিনের সময়ও দেয়া হয়। যেহেতু সময় অতিবাহিত হয়েছে, তাই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1231 People

সম্পর্কিত পোস্ট