চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

১০ জানুয়ারি, ২০২১ | ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

আদালত প্রতিবেদক

শাশুড়ি হত্যার দায়ে পুত্রবধূর যাবজ্জীবন

শাশুড়ি হত্যার দায়ে পুত্রবধূর যাবজ্জীবন কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদ-ের আশে দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৭ম আদালতের বিচারক আ ফ ম শহীদুল্লাহ কায়সার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি নাঈমুদ্দিন লিজা (২৭) আনোয়ারার বরুমছড়া এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার পর তাঁকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়। একই এলাকার হাবিবুল ইসলাম কফিল নামের একজনকে এ মামলার রায়ে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। অতিরিক্ত জেলা পিপি রুবেল পাল পূর্বকোণকে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পুত্রবধূর পরকীয়ার ঘটনা জেনে যাওয়ায় শাশুড়ি সোহাগ খাতুনকে (৫৫) ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে আসামি। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় সোহাগ খাতুনের নিজ ঘরে তিনি খুনের শিকার হন। সেদিন রাতে প্রতিবেশী বাদশা মিয়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে আসামি লিজাকে রক্তাক্ত ছুরি হাতে নিজ ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ঘরের ভেতর গোঙানির শব্দ শুনে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন। এরপর সোহাগ খাতুনের ঘরে ঢুকে প্রতিবেশীরা সোহাগ খাতুনের গলাকাটা দেহ দেখতে পান। এরপর তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহাগ খাতুনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ফজলুল হক আনোয়ারা থানায় লিজার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, প্রতিবেশী হাবিবুল ইসলাম কফিলের সাথে আসামির পরকীয়ার সম্পর্ক জেনে যান শাশুড়ি সোহাগ। এ কারণে লিজাকে শাশুড়ি কটূ কথা বলতেন। তাই কফিলের সহযোগিতায় শাশুড়িকে হত্যা করেছেন লিজা।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর লিজা ও কফিলের নামে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৬ সালের ২৫ জানুুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালতে ৮ জন সাক্ষ্য দেন। আসামি লিজার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাকে উপরিউক্ত দ-াদেশ দেয়া হয়।

অপরদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ না হওয়া কফিলকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। রায়ের সময় কফিল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 187 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট