চট্টগ্রাম রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:


Notice: Undefined property: stdClass::$container_aria_label in /home/dainikpurbokone/public_html/wp-includes/nav-menu-template.php on line 190

১০ জানুয়ারি, ২০২১ | ৬:৪০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আনোয়ারায় শাশুড়িকে গলা কেটে হত্যায় পুত্রবধূর যাবজ্জীবন

আনোয়ারায় ছয় বছর আগে শ্বাশুড়িকে গলাকেটে হত্যার দায়ে নাঈমা লিজা নামে এক পুত্রবধূকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

রবিবার (১০ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার এ রায় দিয়েছেন। এছাড়া তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

খুন হওয়া সোহাগ খাতুন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়া গ্রামের ফজলুল হকের স্ত্রী। পুত্রবধূ নাঈমা লিজা ঘটনার পর গ্রেপ্তার হয়ে এখনো কারাগারে আছেন।

মামলার ও অভিযোগপত্রের নথির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি এপিপি রুবেল পাল জানান, ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হন।  এসময় তিনি পাশের ঘরে গোঙানির আওয়াজ শুনতে পান। বাদশা ওই ঘরে উঁকি দিয়ে দেখতে পান, লিজা রক্তাক্ত ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। তখন তিনি চেঁচামেচি করে লোকজন জড়ো করেন। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সোহাগ খাতুনের গলাকাটা লাশ খাটের ওপর পড়ে আছে।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লিজাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পরদিন ফজলুল হক বাদী হয়ে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন।

লিজা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে জানান, প্রতিবেশি দেবর হাফিদুল ইসলাম কফিলের সঙ্গে তার বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল। শ্বাশুড়ি বিভিন্ন সময় তাদের সম্পর্কে বাধা দেওয়ায় ও তার স্বামীকে জানিয়ে দেওয়ায় এবং এ নিয়ে পারিবারিকভাবে অশান্তি সৃষ্টি করায় কফিলের প্ররোচনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে খুন করেছেন লিজা। লিজার প্ররোচনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে খুন করেছেন কফিল।

জবানবন্দি ও তদন্তের ভিত্তিতে কফিলের সম্পৃক্ততা পেয়ে পুলিশ ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর লিজার সঙ্গে তাকেও আসামি করে দু’জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেন।

এপিপি রুবেল পাল জানিয়েছেন, লিজার বিরুদ্ধে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারায় আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। তবে কফিলকে আদালত খালাস দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে যাচাইবাছাই করে উচ্চ আদালতে কফিলকে খালাসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 304 People

সম্পর্কিত পোস্ট