চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

১০ জানুয়ারি, ২০২১ | ১:৫২ অপরাহ্ণ

ইফতেখারুল ইসলাম

চসিক নির্বাচন: বিদ্রোহীতে উভয় সংকটে আ. লীগ

বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে চাপে আছে আওয়ামী লীগ। না পারছে তাদেরকে বহিষ্কার করতে, না পারছে নির্বাচন থেকে নিবৃত্ত করতে। চরম বিপাকে পড়েছেন নগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা। এ নিয়ে তারা বিদ্রোহীদের সাথে ব্যক্তিগত এবং দলীয়ভাবে যোগাযোগ করে তাদেরকে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন। একইভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপিও। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।

নগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর সাথে আলাপকালে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েই তারা প্রশ্ন তুলেন। তাদের অভিযোগ জেলা পর্যায়ে পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত নেয়া হয়। তৃণমূল থেকে এক বা একাধিক প্রার্থীর তালিকা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। কেন্দ্র থেকে দেদারসে ফরম বিক্রি করেছে। কারা কোন যোগ্যতা কিংবা কোন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে মনোনয়ন পেয়েছে তা নেতাকর্মীরা জানেন না। কারণ এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম মহানগর কিংবা তার অধীন থানা আওয়ামী লীগ থেকে কোন মতামত নেয়া হয়নি। এ কারণে কোন কোন ওয়ার্ডে যোগ্য প্রার্থীরা বাদ পড়ে গেছেন। তারা বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তাদের দেখাদেখি আরো অনেকেই নির্বাচন করছেন।

এদিকে ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৫টি ওয়ার্ডেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ওয়ার্ডেও রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণার পর তিনটি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ওয়ার্ডে প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তারাও নির্বাচনের মাঠে রয়ে গেছেন।

এদিকে নগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে নিবৃত্ত করতে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের কাছে চিঠিও গেছে। কিন্তু কোনো কোনো ওয়ার্ডে দলের মনোনীত প্রার্থীর চেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেসব ওয়ার্ডে বিদ্রোহী  প্রার্থীদের সমর্থকদের ভোট নৌকার পক্ষে না গেলে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী (যিনি গতবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন) পূর্বকোণকে বলেন, আমাদের কর্মী সমর্থকদের ভোট কি মেয়র প্রার্থীর প্রয়োজন নেই? যদি প্রয়োজন থাকে তাহলে বিভিন্ন সংস্থার লোকজন দিয়ে আমাদের কর্মীদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে? তিনি বলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সঠিকভাবে প্রার্থী বাছাই করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই তারা প্রার্থী হয়েছেন। বাছাই প্রক্রিয়ায় যারা ছিলেন এটা তাদের ব্যর্থতা। এখানে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোষ নেই। বেশি চাপাচাপি করলে তাদের কর্মী-সমর্থকরা বিগড়ে গেলে আখেরে নৌকারই ক্ষতি হবে। এমন মন্তব্য করেন তিনি।

জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন পূর্বকোণকে বলেন, বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে নিবৃত্ত করতে তিনি ব্যক্তিগত এবং সাংগঠনিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু ইতিবাচক ফল আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে বলেন, বিদ্রোহীদের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 901 People

সম্পর্কিত পোস্ট