চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

৯ জানুয়ারি, ২০২১ | ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

মরিয়ম জাহান মুন্নী

জনবল ও বাজেট বাড়ানো জরুরি: ড. আহমেদ আব্দুল্লাহ

জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর: করোনায় বিদেশি দর্শনার্থী কমেছে ৯০ শতাংশ

সদ্য বিদায়ী বছরে (২০২০ সাল) দেশীয় দর্শনার্থীসহ বিদেশি দর্শনার্থী হারিয়েছে নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত দেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর। বিগত এক বছরে মাত্র ২৪ জন ভিনদেশী দর্শনার্থী এই জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় এক দশমাংশ।

জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের টিকিট কাউন্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে ২০১৯ সালে ১ লাখ ৪৮ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিলো। অন্যদিকে, ২০২০ সালের চার মাস (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বর ও ডিসেম্বর) টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার পিস। করোনার কারণে মাঝখানে আট মাস বন্ধ থাকায় টিকেট বিক্রি এক চতুর্থাংশে নেমে আসে বলে জানা গেছে।

করোনা পরবর্তী সময়ে জাদুঘরটি খোলার পরে দেশীয় দর্শনার্থী বাড়লেও এখনো একজনও আসেনি বিদেশী দর্শনার্থী। যার কারণে আর্থিকভাবে লোকসান গুনছে নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরটি। এছাড়াও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জাদুঘরের ভিতরের প্রায় অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভিতরের কিছু কিছু জায়গায় দেয়াল চুয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে জাদুঘরের দেয়াল ও নিদর্শন।

জাদুঘরের সহকারী পরিচালক ড. আহমেদ আব্দুল্লাহ দর্শনার্থী ও আয় কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ২৪ জন বিদেশি দর্শনার্থী জাদুঘরে এসেছিলো। এরপর থেকে আর কোন বিদেশি নাগরিক আসেনি। অথচ এ জাদুঘরের বড় আয় হয়ে থাকে বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে এ জাদুঘরে ২৪২ জন বিদেশি দর্শনার্থী এসেছিলো। এদের মধ্যে বেশির ভাগই বৌদ্ধধর্মীয় দেশের নাগরিক। পর্যটন মৌসুমে বিদেশিদের সংখ্যা বাড়ে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গক্রমে জাদুঘরের সহকারী পরিচালক ড. আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর হওয়ায় সরকারকে এদিকে আরো বেশি সুনজর দেয়া দরকার। এ জাদুঘরে দেশ-বিদেশ থেকে অনেক গবেষক আসেন হারিয়ে যাওয়া জাতি ও তাদের বিষয়ে গবেষণা করতে। আমাদের অনেক ঐতিহ্য এরমধ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে। যেগুলো এখনি সংগ্রহ করা দরকার। আর এজন্য জাদুঘরটির উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আরো বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন। এছাড়া পর্যাপ্ত জনবল দরকার। সেদিকটিও দেখার দরকার আছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমার পর প্রায় দুই মাস হলো জাদুঘরটি কিছু সতর্কতা মেনে সাধারণের জন্য আবার খোলা হয়েছে। প্রথম দিকে খুব বেশি দর্শনার্থী না এলেও এখন দিন দিন দর্শনার্থী বাড়ছে। ২০২০ সালের শেষ দুই মাস নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সর্বমোট টিকিট বিক্রি হয়েছে ৯ হাজার ৩শ ৭টি। করোনার আগের দুই মাসে প্রায় ৩০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। ২০১৯ সালে ১ লাখ ৪৮ হাজার পিস টিকিট বিক্রি বিক্রি হয়।

প্রসঙ্গতঃ জাদুঘরের দর্শনার্থী টিকিটের মাধ্য মধ্যে চার ধরণের ক্যাটাগরি রয়েছে। এরমধ্যে একটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য, যার দাম ২০ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ টাকার টিকিট, বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ২শ টাকা ও সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ১শ টাকা করে টিকিটের দাম রাখার হয়।

সরেজমিনে জাদুঘর প্রদর্শনকালে দেখা যায়, করোনার মধ্যে বাংলাদেশের পরিচিতি স্বরূপ মানচিত্র স্থাপন ও একটি মুজিব কর্নার তৈরি করা হয়েছে। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এ জাদুঘরে বর্তমানে সর্বমোট ১১টি কক্ষ ও ১টি হল রয়েছে। জাদুঘরে ২৯টি বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর জীবনধারণের নানা জিনিস ও চিত্র প্রদর্শনী রয়েছে। বাংলাদেশের ২৫টি আদিবাসীসহ আরও ৫টি দেশের জাতিতাত্ত্বিক সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়েছে। এর চিত্রগুলো যেন এখনো জীবন্ত। কিছু কিছু রুমে এসব জাতির সপরিবারে ভাস্কর্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ, জাপান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন জাতির বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও ভাস্কর্য রয়েছে এখানে। এসব জিনিসপত্র ও ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে অস্ত্র, ফুলদানি, কাপড়, নৌকা, কাঁচি, অলঙ্কার, বাঁশের পাইপ। এছাড়া নতুন করে একটি কক্ষ করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কিছু সম্প্রদায়ের প্রদর্শনী স্থাপনের জন্য। হলরুমের দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে উপজাতিদের বিভিন্ন রকম উৎসব ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও দর্শনার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে।

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 148 People

সম্পর্কিত পোস্ট