চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১

সর্বশেষ:

৮ জানুয়ারি, ২০২১ | ৫:২৩ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

একান্ত সাক্ষাৎকারে ডা. শাহাদাত হোসেন

‘নগর পিতা’ নয়, নির্বাচিত হলে ‘সেবক’ হতে চাই

‘নগর পিতা’ নয়, নির্বাচিত হলে তিনি ‘নগর সেবক’ হতে চান বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। নগর বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনকারী ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে অল্প সময়ে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নগরীতে পরিণত করার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। একই সাথে পর্যটন শিল্প বিকাশের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দৈনিক পূর্বকোণকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন।

আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মতবিনিময় সভা ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন।

সাক্ষাৎকারে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের পানি থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এবং কর্ণফুলী তীরে কালুরঘাট পর্যন্ত প্রশস্থ রাস্তা, সুউচ্চ বেড়ি বাধ ও আধুনিক সুইচ গেট নির্মাণের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ ও নতুন খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বিএনপি জনমুখী ও জনসম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক দল। মানুষের মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নানাবিধ ষড়যন্ত্রে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করে তুলেছে। দিনের ভোট রাতে নিয়ে নেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মানমর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত করেছে। এমন পরিস্থতিতে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী অপকর্মটি বিশ্বকে দেখানোর পাশাপাশি মানুষের ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। এটা আন্দোলনের একটি অংশ।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকার গণতন্ত্রের নামে সমগ্র প্রশাসন ব্যবস্থাকে অঘোষিতভাবে একদলীয় শাসনে রূপান্তর করেছে। এখানে তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাঁদের কাছে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিন্দুমাত্র উপস্থিত নেই। বিএনপির সভা-সমাবেশ করতে পারছে না। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কলাকৌশলে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধাগ্রস্ত করছে। রাতে নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে পুলিশের আনাগোনা এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা দেশে একটি অবাধ নির্বাচন ব্যবস্থা কায়েমের জন্য আন্দোলন করে আসছি।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।। এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মেয়র পদে যিনি থাকবেন তাকে সেবকের প্রতিচ্ছবি হতে হবে। মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলে নগরবাসীর সেবার মান বৃদ্ধি করে তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার ইতিবাচক উন্নয়ন সাধন করে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে চট্টগ্রাম নগরকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের জন্য অবকাঠামো সৃষ্টি করা হবে।

নগরবাসীর কর বৃদ্ধি না করে আয়ের উৎস সৃষ্টি করে নগর উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরার জন্য নগরীতে প্রশস্থ ফুটপাত তৈরি ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে চলাচল উপযোগী করা এবং উপযুক্ত স্থানে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় নারী ও পুরুষদের জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট তৈরি করা হবে। বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের আধুনিক নগরীসমূহের আদলে উন্নত প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে, কর্মসংস্থানের উদ্যোগকে আরো বৃদ্ধি কওে দরিদ্র মানুষগুলোকে একটি ছকে এনে কর্মের সংস্থান করা হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, রাতের বেলায় মনে হয় চট্টগ্রাম একটি ভূতুড়ে নগরী । রাস্তায় এবং অলিতে গলিতে পর্যাপ্ত আলো ব্যবস্থা করে মানুষের পথ চলা নিরাপদ করতে চাই। এছাড়াও বাণিজ্যিক রাজধানীকে বাণিজ্যের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে যাবতীয় উন্নয়ন ও সেবায় সুপরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তি যোগে নতুন ব্যবস্থাপনা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত, সুস্থ বিনোদন ও চরিত্র গঠনের জন্য যুব সমাজকে নৈতিকতার পথে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের লক্ষ্যে আইটি পার্কসহ আইটি উপশহর গড়ে তোলা হবে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড এলাকার সমস্যাকে চিহ্নিত করে আলাদা উন্নয়নের ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং এলাকা ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল বৃদ্ধি করা হবে।

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 366 People

সম্পর্কিত পোস্ট