চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১

৪ জানুয়ারি, ২০২১ | ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সারোয়ার আহমদ

চট্টগ্রাম কাস্টমস: করোনায়ও রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি

করোনা মহামারীর মধ্যেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ন রেখেছে দেশের সিংহভাগ রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আহরণের পরিমাণ গত অর্থবছরের (২০১৯-২০) একই সময়ের তুলনায় ৪৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বেশি। প্রবৃদ্ধি অর্জনের এ হার ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

 

বিজ্ঞাপন

২০২০-২১ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, করোনার মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস চলতি জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ করে ২১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অথচ এর আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) একই সময়ে করোনার মহামারী না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব আহরণ করে ২১ হাজার ১৫৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৪৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বেশি আহরণ করে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

 

প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, আগের তুলনায় আমদানি-রপ্তানিতে অনিয়ম অনেক কমে গেছে। আগে এক একটি অনিয়মে বিপুল অর্থ জড়িত থাকতো। যার কারণে বড় অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হতো। কিন্তু এখন অনিয়ম কমে গেছে। যার কারণে করোনা সংকটের মধ্যেও গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, আয় বাড়ার আরো বড় কারণ হলো কাস্টমসের অনিয়মের দণ্ডবিধিতে পরিবর্তন আনা। আগে অনিয়ম করলেও কম শাস্তি হতো। যার কারণে অসাধু ব্যক্তিরা বার বার অনিয়ম করার সাহস পেতো। কিন্তু এখন অনিয়মের কারণে ন্যূনতম দ্বিগুণ জরিমানা করা হয়। অনিয়মের মাত্রা বিবেচনায় যা ক্ষেত্র বিশেষে সর্বোচ্চ চারগুণও করা হয়। এছাড়া বন্ড ব্যবস্থায় কঠোর অবস্থানের কারণেও রাজস্ব ফাঁকি কমে গেছে। আগে বন্ড সুবিধায় অনেকে কমার্শিয়াল পণ্য আমদানি করে খালাস করতো। এতে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হতো। কড়া নজরদারির কারণে এই সুযোগ আর কেউ পাচ্ছেন না। এসব কারণে অপরাধের মাত্রা কমে গেছে। অন্যদিকে রাজস্ব আহরণও বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 

এদিকে, প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকলেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৫৬৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কিন্তু এই সময়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে ৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা।

 

ঘাটতি রাজস্ব প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার বলেন, করোনার কারণে এখনো পুরো বিশ্বের অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। তারপরেও আমাদের দেশের শিল্প কারখানাগুলো খুলতে শুরু করেছে। যার ফলে আমদানিও বাড়ছে। তবে বাণিজ্যিক পণ্যের আমদানি এখনো কম। কারখানার কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে বেশি। কাস্টমস যেসব পণ্যে বেশি রাজস্ব পায় যেমনঃ জ্বালানি তেল, গাড়ি, ইলেক্ট্রনিক্স ইত্যাদি আমদানি কমেছে। যার ফলে প্রথম ছয় মাসের রাজস্ব আয়ে ঘাটতি রয়েছে।

 

তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমদানিকারকেরা ওইসব উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি শুরু করলে রাজস্ব আয়ের ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে উল্লেখ করেন কাস্টমস কমিশনার।

 

ব্যবসায়ীদের আমদানি-রপ্তানি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে মন্দাভাব বিরাজ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় সারাদেশের আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। এ কারণেও দেশীয় আমদানিকারকেরা কম পরিমাণে আমদানি করছে। তাই বিশ্ব বাজারের সাথে দেশের বাজারেও পণ্যের ঘাটতি হচ্ছে। তবে করোনার টিকা সবার মধ্যে আশা জাগাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যে সবার নাগালে আসবে আশা করি।

 

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৩৩ দশমিক ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ২১ হাজার ৬৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসকে আগামী ছয় মাসে আরো ৪৩ হাজার ৭৭৯ কোটি ৩ লাখ টাকা আহরণ করতে হবে।

 

পূর্বকোণ/পি-মামুন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 187 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট