চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

৩০ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৫:৩০ অপরাহ্ণ

শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি

কৃত্রিম হ্রদে পর্যটন স্পট

কক্সবাজার থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটারের দূরে অবস্থিত বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন লেক। কক্সবাজারের রামু হয়ে পর্যটকদের অনেকে ছুটে আসছেন দৃষ্টিনন্দন কৃত্রিম হ্রদটি দেখতে। এ স্থানটি ইকো ট্যুর ও পিকনিক স্পট হিসেবে বেশ পরিচিত। লেকের বুক চিরে আছে ঝুলন্ত সেতু।

সম্প্রতি লেকটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে ২২টি স্পটে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ করা হয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর শিল্প কারুকাজের ২২টি স্পটের মধ্যে রংধনু স্পটটি উদ্বোধন করেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে প্রায় ২৫ একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে ১৯৯০ সালে উপবন পর্যটন লেক নামে পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলে উপজেলা প্রশাসন। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির পর্যটন শিল্প পিছিয়ে নেই। সরকারের আন্তরিকতায় এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতায় উপবন পর্যটন কেন্দ্র লেকটি সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি।

নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, যোগদানের পর থেকে উপবন পর্যটনে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কাজ করেছি। শীতকালে অনেক ট্যুরিস্ট আসেন। বিশেষ করে কক্সবাজারের পর্যটকরা। এসব পর্যটক যাতে সুন্দরভাবে উপবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন সেজন্য সম্প্রতি কিছু শিল্প কারুকাজের বেঞ্চ, টেবিল, শিশুদের জন্য দোলনার উন্নয়নকাজ করা হয়েছে।

সাবেক ইউপি মেম্বার আলী আকবর সওদাগর বলেন, তখনকার সময় ইউএনও ছিলেন মতিউর রহমান। একসময় এই লেকের পশ্চিম পাশে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ঝরনা ছিল। এসব ঝরনার পানির উৎস নিয়ে ১৯৮৫ সালে দুই পাহাড়ের মধ্যখানে কৃত্রিম হ্রদ খনন করা হয়। যা ছিল প্রথম সূচনা। ইউএনও মতিউর রহমানের উদ্দেশ্য ছিল উপজেলা সদরে পানির সমস্যা দূরীকরণ।

সার্বিকভাবে সহায়তা করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক নাজমুল আলম সিদ্দিকী, তৎকালীন বান্দরবান রিজিয়নের সেনা কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাখাওয়াত হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাহান, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাকিম (প্রয়াত)। এরপর ১৯৯০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে লেকের পাহাড়ে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে গড়ে তোলেন উপবন পর্যটন স্পট।

শুরুতে এটি ইউএনওর গোধা বা ইউএনও লেক নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করার পর ‘শৈলশোভা’ লেক নামে পরিচিতি পায়। দৃষ্টিনন্দন ও পাহাড়ি স্থানগুলো দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন। তবে উপজেলায় পর্যাপ্ত হোটেল-মোটেল, সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় পর্যটকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 196 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট